জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি : টিআইবি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পেরিয়ে গেছে দুই বছর। তবে এখনো পূরণ হয়নি গণঅভ্যুত্থানের প্রধান আকাঙ্ক্ষা। হতাশাই প্রকাশ করল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে সংঘাত ও সহিংসতা কমার প্রত্যাশা তৈরি হলেও তা অর্জিত হয়নি। রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধিমালা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ মূল নির্বাচনী আইনগুলোতে বড় ধরনের সংস্কারের সুপারিশ করেছে তারা।
আজ রবিবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে সংঘাত ও সহিংসতা হ্রাস পাবে, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। রাজনৈতিক চর্চাকে সুশাসনে রূপ দিতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ উত্থাপন করে সংস্থাটি।
প্রস্তাবিত সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং ২০০৮ সালের রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন করা। আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে শর্ত সহজ করা এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর পর্যালোচনা ও তদারকির সাপেক্ষে দলীয় নিবন্ধন নবায়নের বিধান রাখা। পাশাপাশি, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী যারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য, তাদের নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দলের সাধারণ বা মূল কমিটির সদস্য করার সুযোগ রাখা যাবে না।
মনোনয়ন বাণিজ্য রোধে তৃণমূলের ভোটে প্রার্থী প্যানেল তৈরির প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় দলীয় সদস্যদের গোপন ভোটে প্রার্থী প্যানেল তৈরি করে সেখান থেকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর অন্তত তিন বছরের সক্রিয় সদস্যপদ থাকা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সর্বসাধারণের আস্থা অর্জনে রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আর্থিক বিবরণী ও আয়ের উৎস জনসমক্ষে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানায় টিআইবি।



