শামা ওবায়েদ
ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার

সংগৃহীত ছবি
বিএনপি সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। গত ১৫-১৬ বছরে ব্যাংকিং, পুঁজিবাজারসহ আর্থিক খাতের বিভিন্ন কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে আবার গতিশীল করতে সরকার প্রয়োজনীয় নীতি গ্রহণ করছে।
আজ রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এসব কথা বলেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘সরকারের প্রথম বাজেট মূলত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বাজেট। এটি অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর প্রথম পদক্ষেপ।’
তিনি জানালেন, গত জুনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এনবিআর চেয়ারম্যান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী ও বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন। সেখানে বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়।
‘সেই সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় রোববার একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অর্থ উপদেষ্টা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।’—যোগ করেন শামা ওবায়েদ।
বৈঠকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ, বিদেশি বিনিয়োগ, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং ব্যবসা সহজীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলোর সমাধানের উপায় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বললেন, ‘বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, ‘বিনিয়োগ বাড়ানোর কাজ শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নয়। এ ক্ষেত্রে বাণিজ্য, অর্থ, শিক্ষা, কৃষি ও সমাজকল্যাণসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো মূল ভূমিকা পালন করবে। বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’
‘ক্রীড়া খাতেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। স্পোর্টস ডিপ্লোমেসিকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।’—যোগ করেন তিনি।
ব্লু ইকোনমি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানালেন, এটি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ইউরোপের অনেক দেশ এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে।
বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তিনি জ্বালানি, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং কুটির শিল্পের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সংস্কৃতি ও সৃজনশীল অর্থনীতিতেও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে জানান।
বিদেশি বিনিয়োগ কবে থেকে দৃশ্যমান হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বললেন, ‘বিনিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি এক বা দুই দিনে হয় না। চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা ও কাজ চলমান রয়েছে।’




