গ্যাস নিয়ে মিলল স্বস্তির আভাস
- মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার সচল
- দুই-তিন দিনের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনের আশা
- ভারতকে আরও ডিজেল সরবরাহের অনুরোধমহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার সচল
- দুই-তিন দিনের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনের আশা
- ভারতকে আরও ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
টানা দুই সপ্তাহের গ্যাসসংকটের মধ্যে ফিরতে শুরু করেছে স্বস্তির আভাস। আগুনে থমকে যাওয়া মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল আবার সচল হওয়ার পথে। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রবাহ কিছুটা বাড়ায় কমতে পারে লোডশেডিং ও শিল্পকারখানার জ্বালানি সংকট।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আবার বাড়তে শুরু করেছে। গত বুধবার রাতে সরবরাহ শুরু হওয়ার পর বিকাল নাগাদ তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সরকার আশা করছে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিতীয় বয়লারও চালু হলে দেশের গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত থেকে আরও বেশি ডিজেল আমদানির উদ্যোগও নিয়েছে সরকার।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, বুধবার রাত ৩টা ১০ মিনিটে টার্মিনালটি থেকে ১১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল নাগাদ তা বেড়ে প্রায় ২৫ কোটি ঘনফুটে পৌঁছে। ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিতীয় বয়লারটি চালু হলে প্রতিদিন ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে। তখন এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসসংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেছেন, টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে গ্যাস সরবরাহে আর কোনো সংকট থাকবে না। কারণ চাহিদা অনুযায়ী এলএনজি কার্গোর সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ থেকে ৪০০ কোটি ঘনফুট। দুর্ঘটনার আগে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, যার মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট আসত আমদানি করা এলএনজি থেকে। গত ২১ জুলাই টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সরবরাহ কমে ২১২ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। তা বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে।
এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে বিদ্যুৎ খাতে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশ জুড়ে লোডশেডিং বেড়ে যায়। গত সোমবার লোডশেডিং সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। বুধবারও তা প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াটে ছিল। তবে
গতকাল গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় এবং আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল থাকায় দিনের বেলায় লোডশেডিং নেমে আসে ৩২৫ মেগাওয়াটে। সন্ধ্যা ৭টায় তা বেড়ে প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট হয়।
গ্যাসসংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহক, শিল্প উদ্যোক্তা এবং সিএনজি ব্যবহারকারীরা। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হয়। সরকার পরিস্থিতিকে সামাল দিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ জোরদার করেছে। গ্যাস দুর্ভোগের জন্য এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এলএনজি সরবরাহে সহযোগিতা চেয়েছেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হবে। তখন দেশের গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরে আসবে এবং বন্ধ থাকা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আবার চালু করা হবে।
তিনি বলেছেন, গ্যাসসংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং লোডশেডিং বেড়েছে। তবে এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ফল, কারও অবহেলার কারণে সৃষ্টি হয়নি।
এদিকে গতকাল বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যমান পাইপলাইন দিয়ে ভারত থেকে আরও বেশি ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে জ্বালানি সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেছেন, ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। এ বিষয়ে আলাপ হয়েছে কি না, তাও তিনি বলেননি। বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ‘ভুতুড়ে বিল’-এর অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকরা প্রকৃত তথ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আসেন না। জুন মাসে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় এবং গ্রাহকদের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণেও অনেকের বিল বেড়েছে।




