তোফায়েল আহমেদ কেন কোণঠাসা ছিলেন দলীয় রাজনীতিতে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির সেই উত্তাল সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তোফায়েল আহমেদ হয়ে উঠেছিলেন উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা। এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দাপটের সঙ্গে রাজনীতিতে ছিলেন।
তোফায়েল আহমেদ ভোলা জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৩ সালের ২২শে অক্টোবর। ৮২ বছর বয়সের দাপুটে এই রাজনীতিক তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক পর্যায়ে এসে দলের শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন।
যদিও স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৪ বছরে নৌকা প্রতীকেই ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তোফায়েল আহমেদ। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সাতই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনেও ভোলা-১ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু জীবনের শেষ এক দশকের বেশি সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে থাকায় তিনি নিজেকে অবহেলিত মনে করতেন। দলীয় রাজনীতিতে প্রভাব হারানো তোফায়েল আহমেদের মাঝে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তার ঘনিষ্ঠ একাধিক রাজনীতিক।
তবে তারা বলছেন, দলীয় রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব, কোন্দলের কারণে নিজের অবস্থান নিয়ে হতাশা থাকলেও তোফায়েল আহমেদ আদর্শচ্যুত হননি। তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবের আদর্শ ধারণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেই ছিলেন।
তোফায়েল আহমেদকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ বলে উল্লেখ করেন তার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকদের কেউ কেউ।
তারা মনে করেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি, গণতান্ত্রিক সব আন্দোলন এবং মন্ত্রিত্ব ও এলাকার রাজনীতি- প্রতিটি ক্ষেত্রেই তোফায়েল আহমেদ দক্ষতার সঙ্গে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের শাসনে দুই দফায় মন্ত্রী ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।
পরিবারের একজন সদস্য জানিয়েছেন, তোফায়েল আহমেদ কয়েক বছর ধরে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন। স্ট্রোকের কারণে তার শরীরের একাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। বাঁ হাত ও পা অবশ হয়ে পড়ায় তিনি অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন চলাফেরা করতে।
উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের নেতা হয়ে ওঠেন যেভাবে
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে ১৯৬৮-৬৯ এর উত্তাল সময়ে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর ভিপি। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমানে জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদে ছিলেন এবং জড়িত ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে।
তোফায়েল আহমেদ বরিশালের বজ্রমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ডাকসুর ভিপি হওয়ার পরই সে সময়ের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে প্রথম কাতারে চলে আসেন তোফায়েল আহমেদ।
উনসত্তরেই ছাত্রলীগের সভাপতি হন তোফায়েল আহমেদ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার সঙ্গে ছাত্রদের দাবি যুক্ত করে ১১ দফা দাবিতে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নের দুই অংশসহ চারটি ছাত্র সংগঠন তখন সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে আন্দোলনে নেমেছিল।
ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন তোফায়েল আহমেদ।
সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচি ১৯৬৯ সালের ২৪শে জানুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানে রুপ নেয়। তোফায়েল আহমেদ হয়ে ওঠেন সেই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা।
সেই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সরকার ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল আসামিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
ওই বছরই ২৩শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) এক জনসভার আয়োজন করেছিল। সেই জনসভা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আর ওই ঘোষণা দিয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ।
মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা হওয়ার পর তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের বাঁক বদলে যায়। জাতীয়ভাবে তার একটা অবস্থান তৈরি হয়।
রাজনীতিতে প্রভাব
সাতাশ বছর বয়সে তোফায়েল আহমেদ ১৯৭০ এর জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন।
বাংলাদেশর স্বাধীনতা লাভের পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় তোফায়েল আহমেদকে তার রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ করেন।
সে সময়ের একাধিক রাজনীতিক বলেছেন, স্বাধীনতার পর সে সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার যে রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিল, শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে তোফায়েল আহমেদের হাতে আনঅফিসিয়ালি সেই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ছিল।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৭৩ সালে নিজের জেলা ভোলা থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর আরও আট বার নৌকা প্রতীকেই সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি।
শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট। সে সময় আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গে তোফায়েল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তখন তিনি ৩৩ মাস জেল খেটেছিলেন।
পরে জেল থেকে বেরিয়ে তিনি সে সময় মালেক উকিলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছিলেন।
সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের পতনের আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন তোফায়েল আহমেদ।
শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় আসে, সেই সরকারে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ।
আবার ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। অবশ্য ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর দলটির টানা দ্বিতীয় দফায় শেখ হাসিনার সরকার গঠন করলে সেই সরকারে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তবে পরের দফায় ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তার দল আওয়ামী লীগ আবারো সরকার গঠন করলেও সেই মন্ত্রিপরিষদে ডাক পাননি তিনি।
রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির বাইরে জাতীয় রাজনীতিতেও একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।
জেনারেল এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর অভিন্ন আন্দোলন গড়ে তোলা, সেই আন্দোলনে তিন জোটের রুপরেখা প্রণয়নে তোফায়েল আহমেদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। অন্য সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও নেতৃত্বের প্রথম সারিতে ছিলেন তিনি।
তবে এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দলীয় রাজনীতিতে প্রভাব হারিয়েছিলেন তোফায়েল আহমদে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিতর্কিত নির্বাচন করে টানা চতুর্থ দফার আওয়ামী লীগ সরকারে মন্ত্রী হতে পারেননি তোফায়েল আহমেদ। তবে ওই সরকারের পতন হয় মাত্র সাত মাসের মাথায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে।
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের সরকারে মন্ত্রী যেমন হতে পারেননি, অন্যদিকে দলেও তাকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তোফায়েল আহমেদের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছিল বলে বলেছেন তার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকেরা।
কেন কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন দলীয় রাজনীতিতে
শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন। দলটির যে নেতারা সে সময় তাকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।
পরে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের ব্যাপক প্রভাব ছিল। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আশির দশকের শেষ দিকে শেখ হাসিনার সঙ্গে তোফায়েল আহমেদের এক ধরনের শীতল সম্পর্ক তৈরি হয়।
এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওই নেতারা বলেন, পঁচাত্তরে শেখ মুজিবকে স্বপরিবারে হত্যার ঘটনার পর তোফায়েল আহমেদ যদিও জেল খেটেছেন, কিন্তু সে সময় তোফায়েল আহমেদ শক্ত অবস্থান নেননি। এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের।
শেখ হাসিনা কয়েকবার বক্তব্যেও তার সেই ধারণা প্রকাশ করেছেন। এটি তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে শেখ হাসিনার শীতল সম্পর্কের একটি বড় কারণ ছিল বলে মনে করেন দলটির নেতাদের অনেকে। আর দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে শীতল সম্পর্কের কারণে দলীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ই কোণঠাসা হয়ে থাকতে হয়েছে তোফায়েল আহমেদকে।
আশির দশকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দলটির একজন নেতা জানিয়েছেন, তোফায়েল আহমেদ তাদের দলের সাধারণ সম্পাদক হতে না পেরে তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল আশির দশকের শেষ দিকে।
আওয়ামী লীগের নীতনির্ধিারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয়েছিল তোফায়েল আহমেদকে। সর্বশেষ তিনি দলটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। দলের নীতিনির্ধারণে উপদেষ্টা মণ্ডলীর তেমন কোনো ভূমিকা ছিল না।
দলীয় রাজনীতিতে হতাশার বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ নিজেও ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকদের কাছে বিভিন্ন সময় শেয়ার করতেন। তার সেই ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। যদিও সেলিম কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতি করেন। কিন্তু এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় দলগুলোর মধ্যে লিঁয়াজো করতে গিয়ে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ট হয়েছিল।
বর্তমানে কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, দলীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় সংকটে পড়ে হতাশ হয়েছেন। কিন্তু আদর্শ থেকে সরেননি এবং রাজনীতির যাত্রায় থেমে যাননি।
তবে এক এগারোর সরকার হিসেবে পরিচিত ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সময়ে তোফায়েল আহমেদসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার ভূমিকার জন্য পরবর্তীতে দলের রাজনীততে বেশি বেকায়দায় পড়েছিলেন তারা। সেই সরকার রাজনীতিতে সংস্কারের কথা বলে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হাসিনা ও বিএনপির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সে সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আব্দুর রাজ্জাক ও আমির হোসেন আমুর সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ তাদের দল আওয়ামী লীগে সংস্কারের প্রস্তাব তুলেছিলেন। বিএনপিরও কয়েকজন নেতা তাদের দলে সংস্কারের প্রস্তাব তুলেছিলেন। আওয়ামী লীগেও সংস্কারপন্থী বলে ওই চার নেতার একটা পক্ষ তৈরি হয়েছিল।
সেই এক এগারোর সরকার তাদের সংস্কার ও দুই নেত্রীর মাইনাস করার ফর্মূলা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এক পর্যায়ে দুই নেত্রীর নেতৃত্বেই দলদুটো ২০০৮ সালে নির্বাচন করেছে এবং বিদায় নিতে হয়েছে সেই সরকারকে। কিন্তু রাজনীতিতে কপাল পোড়ে সেই সংস্কারপন্থীদের। তোফায়েল আহমেদ দলে চিহ্নিত হন সংস্কারপন্থী হিসেবে এবং একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েন দলীয় রাজনীতিতে।
এরপর টানা সাড়ে পনেরো বছরের আওয়ামী লীগের শাসনে যদিও তোফায়েল আহমেদ একবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি তোফায়েল আহমেদ কতটা সামলে উঠতে পেরেছিলেন, তার রাজনৈতিক সহকর্মীদেরও কারও কারও সেই প্রশ্ন রয়েছে।
তবে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। এমন এক সময় তিনি চিরবিদায় নিলেন, যখন দলটি গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় চরম সংকটে রয়েছে।







