সংসদে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
ইরান থেকে দেশে আনা হয়েছে ১৮৬ জনকে

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ নারী ও ৮ শিশুসহ ১৮৬ জনকে ফেরত আনা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধপরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন সময় প্রবাসী কর্মীদের ফেরত আনা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১২ প্রবাসী বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে ১ জনের লাশ সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়েছে এবং ৯ জনের লাশ দেশে ফেরত আনা হয়েছে। তাদের পরিবারকে লাশ দাফন বাবদ বিমানবন্দর থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে লেবাননে ৫ জন, সৌদি আরবে ৩ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২ জন, ইরাক ও বাহরাইনে ১ করে মারা গিয়েছেন।
মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য গত এপ্রিল মাসে দেশটির উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে সফর করেছেন। জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবেন। আশা করা যায়, অতিদ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে।
চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নানের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বললেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা চলায় ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার খোলার উদ্যোগসহ থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া থাইল্যান্ড সরকারের নিকট পাঠানো হয়েছে।
তাছাড়া, বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহকে সেদেশের চাহিদা নিরূপণপূর্বক জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রেরণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল গফুরের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বললেন, বিএমইটি’র সার্ভারের তথ্যানুসারে ২০০৪ সাল থেকে গত ৩০ জুন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য ১ কোটি ৯ লাখ ১৮ হাজার ৯ জন বাংলাদেশি গেছে। তবে বৈদেশিক কর্মসংস্থান শেষে এদের একটি বড় অংশ দেশে ফিরেছে। বিদেশ ফেরত কর্মীদের তথ্য না থাকায় বর্তমানে কর্মরত কর্মীর সঠিক সংখ্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে ফেরত আসা কর্মীদের তথ্য আদান-প্রদানের নিমিত্ত বাংলাদেশে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সঙ্গে বিএমটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানান, রাশিয়ায় চাকরির চুক্তিতে যাওয়ার জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানোর ৩০ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বললেন, গত ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সি( যাদের লাইসেন্স নম্বর আরএল নম্বর ১৪৫৫, ১৪২৮ ও ২৫০৫) জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ৩০ বাংলাদেশি কর্মীকে রাশিয়ায় পাঠায়।
তিনি জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ওই কর্মীদের জোরপূর্বক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ক্যাম্প থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর সরকার ব্যবস্থা নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন রাশিয়ার মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মীদের উদ্ধার করে দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠানো হয়।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে ৩০ জনের মধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বাকি কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার আশা করছে সরকার।




