রামিসা হত্যাকাণ্ড থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে : আইনমন্ত্রী

সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান- সংগৃহীত
রামিসার হত্যাকাণ্ড আমাদের কাছে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ রবিবার বিকালে জাতীয় সংসদে তিনশ বিধিতে এই অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুইজন মূল আসামি সোহেল এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড রায় পেয়েছি। মাও সেতুংয়ের একটি ঐতিহাসিক উক্তি আছে- কোন কোন মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী, কোন কোন মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা।’
‘রামিসার হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে। আর যদি আসামিদের আমরা ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে তাদের মৃত্যু ঘটাতে পারি, তাহলে সেটা জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা হিসেবে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি। এটুকুই ছিল আমাদের পক্ষ থেকে এই মহান জাতীয় সংসদ এবং জাতির কাছে আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি।’
আইনমন্ত্রী বললেন, ‘সেদিন আমরা বলেছিলাম, আমাদের যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন রামিসার বাবা বিচার চান নাই... এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য কি? আমরা বলেছিলাম এর একমাত্র জবাব হবে তাকে সেই আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া। আজকে তিনি বলেছেন, এই বিচারে উনি সন্তুষ্ট। আমরা তার আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।’
সকালে রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায় সংসদকে অবহিত করে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘গত ১৯ মে ঢাকা শহরের পল্লবী এলাকায় একটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা ঘটেছিল... আপনারা সবাই দেখেছেন। সেই নৃশংস ঘটনার পর আট ঘণ্টার মধ্যে দুইজন মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সেই টিমে আমিও ছিলাম। আমরা ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করি। ওদিন ভিকটিমের বাবার একটি আহাজারি ছিল যে, উনি বিচার চান না। কারণ এদেশে এ ধরনের ঘটনা বিচার হবে না। আমরা আশ্বস্ত করেছিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন এই ঘটনার আমরা বিচার করতে বদ্ধপরিকর।’
আইনমন্ত্রী রামিসা হত্যার বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরগুলো তুলে ধরে বলেছেন, ‘২৪ তারিখে চার্জশিট পাওয়ার পরপরই আমরা যখন দেখেছি যে আসামিপক্ষ কোনো আইনজীবী দেয়নি। তাদের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অন্যতম একটা প্রক্রিয়া ছিল। আমরা আইনের বিধান মেনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ২৪ তারিখেই আমরা আসামিকে একটি স্টেট ডিফেন্স লয়ার দিতে সক্ষম হই।’




