খুলনায় সকালে যুবক, সন্ধ্যায় গৃহবধূকে গুলি করে হত্যা
- মাদারীপুর ও ঢাকায় পিটুনিতে নিহত ২

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রতিদিনই পিটিয়ে, কুপিয়ে, গুলিতে হত্যার শিকার হচ্ছেন কেউ না কেউ। গত বুধবার রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এভাবেই চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল খুলনায় সকালে যুবক এবং সন্ধ্যায় গৃহবধূকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
মাদারীপুরের কালকিনিতে বোরকা পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলা করতে গিয়ে পাল্টা হামলায় নিহত হয়েছেন যুবলীগের এক নেতা।
এর আগে বুধবার রাতে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু চুরির সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবরে—
খুলনা অফিস জানিয়েছে, খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে িনহত হয়েছেন মো. তুষার (২৭) নামের এক যুবক। গতকাল ভোরে নগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজারের পূর্ব পাশের আনসার উদ্দিন লেন থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের পাশে তার ব্যবহৃত একটি কালো রঙের নাম্বারপ্লেটবিহীন আর-১৫ মোটরসাইকেল পড়ে ছিল। নিহত তুষার নগরীর জিন্নাহপাড়ার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদকসম্রাট পলাশের অন্যতম সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে। ওসি লোকমান হোসেন রিপন বললেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তসহ তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নগরীর জিন্নাহপাড়া বউবাজারের ৭ নম্বর গলিতে খুশি (২৫) নামের এক গৃহবধূকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নগরীর লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে খুশিকে হত্যা করা হয়েছে। তার স্বামী সুমন সরদার এলাকায় ‘ব্লেড বাবু’ নামে পরিচিত।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানালেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদারীপুরের কালকিনিতে বোরকা পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলা করেছিলেন আরেক কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের এক নেতা। ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে কোপাতে গিয়ে পাল্টা হামলার শিকার হন তিনি। এতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্রের কোপে নিহত হন তাইজুল সরদার (২২) নামের ওই যুবক। গতকাল সকালে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারের এই হত্যাকাণ্ডে আহত হয়েছেন তিনজন। তাদের উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।
নিহত তাইজুল সদর উপজেলার চর কুলপদি এলাকার মৃত রুস্তুম আলী সরদারের ছেলে। তিনি হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি বলেও জানিয়েছে থানা-পুলিশ। এ ছাড়া তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আহত মহসিন চৌকিদার ও জহির চৌকিদার কালকিনির কালিনগরের মোতালেব চৌকিদারের ছেলে। অন্য আহত আল আমিন সরদার মাদারীপুর সদর উপজেলার চর কুলপদি এলাকার বারেক সরদারের ছেলে।
পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সকালে কালিগঞ্জ বাজারের হানিফ হাওলাদারের চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন মহসিন, জহিরসহ আলীনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাফিজুর রহমান মিলন সরদার। হঠাৎ ইজিবাইকে বোরকা পরে এসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জহির ও মহসিন নামের দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মিলনের নেতৃত্বে চলে পাল্টা হামলা। এতে তাইজুল ও আল আমিন নামের দুজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরিস্থিতি শান্ত হলে আহত চারজনকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে। সেখানে তাইজুলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
এদিকে গুরুতর আহত দুই ভাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত তাইজুলের চাচা সোবাহান সরদার বললেন, ‘সাবেক চেয়ারম্যান মিলনের নির্দেশেই ১০-২০ জন মিলে আমার ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। মিলন ও তার লোকজনের ফাঁসি চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মিলনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অথবা পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আগামীর সময় প্রতিবেদক জানালেন, রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলম শেখ (৪১) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে ঘটে এ হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় মোস্তাফিজুর রহমান অয়ন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন আলম। এতে সেখানে চিকিৎসাধীন শিশুর স্বজনদের সন্দেহ হলে তার কাছে হাসপাতালে আসার কারণ জানতে চাওয়া হয়। কোনো প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারায় তাকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালের নিচে নিয়ে মারধর করা হয়। ভোরে মৃত্যু হয় তার।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বললেন, আলমের ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে শনাক্ত করা হয়েছে পরিচয়। তার বাড়ি নাটোরে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের খবর পাঠানো হয়েছে। তারা অভিযোগ দিলে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।



