বেবিচক একাডেমিতে প্রথমবারের মতো আইএলএস রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে প্রথমবারের মতো ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেমের (আইএলএস) রক্ষণাবেক্ষণবিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।
আজ বৃহস্পতিবার কোর্সটি শেষ হয়। এর আগে ১১ অক্টোবর ‘আইএলএস মেইনটেন্যান্স কোর্স নং-১’ শুরু হয়েছিল। একাডেমির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার আওতায় এ কোর্স আয়োজন করা হয়।
ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম উড়োজাহাজের নিরাপদ অবতরণে সহায়তাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ নেভিগেশন ব্যবস্থা। বিশেষ করে প্রতিকূল আবহাওয়া ও সীমিত দৃশ্যমানতার মধ্যে অবতরণের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, কারিগরি ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং দ্রুত সমস্যা সমাধান প্রয়োজন।
প্রশিক্ষণে আইএলএসের কার্যপদ্ধতি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, কারিগরি ত্রুটি শনাক্তকরণ ও সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজ নিজ কর্মস্থলে আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বেবিচক আশা করছে, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের বিমানবন্দরগুলোতে আইএলএসের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করবে। একই সঙ্গে যন্ত্রপাতির নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা, কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট বিঘ্ন কমানো এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। দেশীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলার মাধ্যমে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও বহিরাগত কারিগরি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর সুযোগও তৈরি হবে।
কোর্সে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেবিচক সদর দপ্তরের পরিচালক (সিএনএস) প্রশান্ত কুমার সাহা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপপরিচালক (সিএনএস) কাজী শামসুল আলম।
বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে প্রথমবারের মতো এ বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের আয়োজন সংস্থাটির কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে বিমানবন্দরগুলোর নেভিগেশন সহায়ক ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং নিরাপদ ও দক্ষ বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



