বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে ফের আপত্তি

সাধারণ মানুষ যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে পিষ্ট, তখন নতুন করে বিদ্যুতের দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কতটুকু বাড়বে, তা এখনো চূড়ান্ত না হলেও বাড়ার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। আগামী মাস থেকেই কার্যকর হতে পারে নতুন দর। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রায় ৫ কোটি গ্রাহক।
রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি বিতরণ কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গণশুনানির আয়োজন করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ভোক্তা প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
তারা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ, সিস্টেম লস, অপচয়, অদক্ষতা, অস্বচ্ছ চুক্তি, বিদ্যুৎ চুরি ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর বাড়তি ব্যয়ের কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। এগুলো বন্ধ হলে দাম না বাড়িয়ে বরং আরও কমানোর সুযোগ তৈরি হতো।
শুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদও স্বীকার করেন, ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে সরকারের ভর্তুকির চাপ অস্বাভাবিক বেড়েছে এবং বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গড়ে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। তাদের দাবি, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় বিক্রয়মূল্য ৮ টাকা ৫০ পয়সা হলেও লোকসান এড়িয়ে সংস্থাটিকে সচল রাখতে এই মূল্য কমপক্ষে ৯ টাকা করা জরুরি। পিডিবি এলটি (লো ভোল্টেজ) গ্রাহকের সীমা ৮০ থেকে কমিয়ে ৫০ কিলোওয়াট করার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক ট্যারিফের আওতায় আনার প্রস্তাব করেছে। ডিপিডিসি প্রায় ৭ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ঘাটতি পূরণে সংস্থাটি কিছু নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব করেছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন করে সিকিউরিটি চার্জ আদায় করা এবং যেসব গ্রাহকের পাওয়ার ফ্যাক্টর কম, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। ডেসকো প্রায় ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করেছে।
দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা ওজোপাডিকো আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য ৮ শতাংশ এবং অন্যান্য সাধারণ আবাসিক গ্রাহকের জন্য ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে ইজিবাইক চার্জিং স্টেশনগুলোকে বাণিজ্যিক ট্যারিফের আওতায় এনে রাজস্ব বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে নেসকোর দাবি, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। আগামী অর্থবছরে তাদের নিজস্ব বিতরণ ব্যয় প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৬৬ পয়সায় পৌঁছাবে।




