প্রধানমন্ত্রী
‘সাত লাখের কথা বলে দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে, এটা দুঃখজনক’

পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী
‘সাত লাখের কথা বলে দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে— এটা দুঃখজনক’ মন্তব্য করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলোদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে একটি উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘কিছুদিন আগে আপনারা খবরে দেখেছেন, আমাদের কক্সবাজারে একটি ট্রেনলাইন গিয়েছে চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী দুলহাজারিয়া হয়ে। ওই দুলহাজারিয়াতে প্রায় কয়েক লাখ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এই ট্রেনলাইন নিতে গিয়ে। আমরা চেষ্টা করছি এগুলোকে রিপ্লেস করতে। যদিও সরকারি হিসাব-নিকাশে বলা হয়েছে সেখানে ৭ লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে… টু বি অনেস্ট আমি সংশ্লিষ্ট যারা গাছ লাগিয়েছে তাদের কাছে রিপোর্টটা নিয়েছিলাম সপ্তাহ দুই-তিনেক আগে। তাদের বললাম যে আপনাদের রিপোর্টটা দেন দেখি কোথায় কোথায় ৭ লাখ গাছ আপনারা রোপণ করেছেন।’
‘পরে আমি ভেরিফাই করেছি, চেক করেছি এবং দেখেছি যে অ্যাকচুয়ালি ওখানে ৭ লাখ গাছ নেই। হার্ডলি ওখানে ২ লাখের মতো গাছ হবে। যেটি খুব দুঃখজনক, ভেরি আনফরচুনেট। আমার মনে হয় এই বিষয়গুলোর প্রতি বোধহয় আমাদের নজর দেওয়া প্রয়োজন, একটু সিরিয়াস হওয়া প্রয়োজন’, যোগ করেন তিনি।
‘ঢাকা বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায়’
প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘যে খবরটা আপনাদের সামনে বলে আমার বক্তব্যটা আমি উপস্থাপন করব সেই খবরটা আনফরচুনেট কী ফরচুনেট এটি বিচারের দায়িত্ব আমি আপনাদের কাঁধে ছেড়ে দিচ্ছি, আপনাদের উপরে ছেড়ে দিচ্ছি। খবরটি গতকাল ৮ জুলাই প্রকাশিত হয়েছে। খবরটিতে বলছে, বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।’
সরকারপ্রধানের ভাষ্য, ‘আজকে আমরা এখানে পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে এসেছি। আমার মনে হয়, এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সকলে সিরিয়াসলি না, ভেরি ভেরি সিরিয়াসলি চিন্তা করার সময় এসেছে। এখানে আজ আমরা যারা বৃক্ষরোপণই হোক বা পরিবেশের বিষয় হোক— এখানে একত্র হয়েছি, আমাদের সবার উচিত হবে এই ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে যখন যে পরিস্থিতিতে যে পরিবেশে আমাদের সুযোগ হয় প্রত্যেকটি মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘গত পরশুদিন আমি সাভারে গিয়েছিলাম সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র দেখতে। যাওয়ার সময় দুপাশে মিল ইন্ডাস্ট্রি আছে, অবশ্যই সেটি একটি ভালো বিষয়; কিন্তু মিল ইন্ডাস্ট্রির কারণে সবকিছু মিলিয়ে দুপাশের রাস্তার যে অবস্থা এটি আপনাদের প্রত্যেকেরই চোখে পড়েছে। আমার মনে হয় কোনো একটি সভ্য দেশে, একটি সিভিলাইজড দেশে এরকম পরিস্থিতি বোধহয় হওয়ার কথা নয়। এই অবস্থা তৈরির জন্য কমবেশি আমরা সবাই দায়ী। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আমরা সবাই চেষ্টা করলে এই অবস্থার পরিবর্তন করতে পারব।’
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম প্রমুখ। বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পূর্ব পাশে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।





