একনেকে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন
- বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৫০ হাজার ৪৪ কোটি টাকা
- একনেকে পাস হওয়া প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের খরচ ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকা
- অনুমোদন পেয়েছে আরও ৮ প্রকল্প

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সব জল্পনা-কল্পনার ঘটেছে অবসান। আজ বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।
ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় প্রকল্পটির গুরুত্ব ছিল ব্যাপক। কিন্তু এর আগে একনেকে উপস্থাপনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েও সেটি তোলা যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করতেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতকে না জানিয়ে এমন প্রকল্প নেওয়া হলে দুই দেশের সম্পর্কে পড়তে পারে নেতিবাচক প্রভাব। এমন ভাবনা থেকেই সরকার হয়তো একটু সময় নিচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি একনেকে উপস্থাপনের পর দেওয়া হয়েছে অনুমোদন।
আজ মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন দেওয়া হয় মোট ৯টি।
সচিবালয়ের মন্ত্রিসভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
জানা যায়, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। একনেকে পাস হওয়া প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের খরচ ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকা ৩৪ হাজার কোটি টাকা। পদ্মা ব্যারেজ (১ম পর্যায়) প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি সংরক্ষণ করে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করা হবে। এর মাধ্যমে পদ্মানির্ভর এলাকার নদী সিস্টেমকে পুনরুজ্জীবিতকরণসহ লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ কমানো, সুন্দরবন ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার, নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা কমানো এবং সেচ সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।
প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ৫টি নদী সিস্টেম (হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে (সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলা) লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ কমিয়ে স্বাদু পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে সুন্দরবন ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করা। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও বনসম্পদ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা কমানো এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর পলি অপসারণ করে যশোরের ভবদহসহ অন্য এলাকার পানি নিষ্কাশন করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর গত ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির মোট ৫০ হাজার ৪৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে সম্পূর্ণ প্রকল্পটি এক ধাপে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সংস্থান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং তদারকি/সমন্বয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি ও ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি প্রকল্পে প্রস্তাবিত বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ-পরবর্তী সংশ্লিষ্ট নদী সিস্টেম জলাধার থেকে পাওয়া প্রবাহের সঙ্গে হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যালভাবে ধীরে ধীরে অভিযোজিত হওয়ার কথা। ফলে খননসহ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। এসব চিন্তা করে প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক্ষেত্রে প্রকল্পটি ২টি পর্যায়ে বিভক্ত করে বাস্তবায়নের জন্য পিইসি সভায় সুপারিশ করা হয়। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ব্যারাজের মূল অবকাঠামো নির্মাণসহ হিসনা-মাথাভাঙ্গা নদী সিস্টেম ও গড়াই-মধুমতি নদী সিস্টেম পুনঃখনন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তবায়নযোগ্য অতিরিক্ত/সহায়ক অবকাঠামো এবং অবশিষ্ট নদী সিস্টেমগুলোর (চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী সিস্টেম) পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রথম পর্যায়ে মূল ব্যারেজ ও গড়াই অফটেক স্ট্রাকচারে ২টি হাইড্রো-পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের সংস্থান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে বিনা জ্বালানিতে।




