তিন জেলায় সড়কে ঝরল সাত প্রাণ

দেশের তিন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাতজন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৩ জন। এর মধ্যে গাজীপুরের টঙ্গীতে গাড়ির ধাক্কায় বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দুজন। আর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে পড়ে প্রাণ গেছে তিনজনের। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশের ভাষ্য, গাজীপুরের টঙ্গীতে গাড়ির ধাক্কায় তপন চন্দ্র দাস (৫০) ও তার ছেলে লিখন চন্দ্র দাস (২০) নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোরে কুটুমবাড়ি হোটেলসংলগ্ন বিআরটি লেনের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক লিখনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত তপনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত বাবা-ছেলের বাড়ি শেরপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কৈবর্তপাড়া এলাকায়। তারা টঙ্গী পশ্চিম থানার গাজীপুরা ২৭ নম্বর চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া থাকতেন। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকসুদুল আলম জানিয়েছেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেড়তলা এলাকায় এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।
নিহতরা হলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সৌরভ (৩২) ও আসিফ (২৫)। খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল হালিম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, রংপুর থেকে সিলেটগামী দিগন্ত পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের হাঁসাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে পড়ে গেছে। গত শুক্রবার রাত ৩টার দিকে ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনায় বাসটির সুপারভাইজার, চালকের সহকারী ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। নিহতরা হলেন বাসের সুপারভাইজার রোকুনুজ্জামান (৫৭), চালকের সহকারী চঞ্চল বিশ্বাস (২৩) ও যাত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ (৩২)। তাদের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায়।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলামের ভাষায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ১১ জনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।



