পোশাক খাতে অস্থিরতা
সন্দেহজনক দুই শতাধিক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তল্লাশি
- তালিকায় সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা

পোশাক খাতে অস্থিরতা উসকে দেওয়া এবং এতে অর্থায়নের অভিযোগে দুই শতাধিক ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব শনাক্ত, স্থগিত ও তল্লাশির উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির দুটি গোয়েন্দা ইউনিট দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পোশাক খাতে অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪০ থেকে ৫০টি গ্রুপ খোলা হয়েছিল। এসব গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২০০ থেকে ২৫০ জনের নামের তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এবং কাউকে নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থের উৎস ও লেনদেনের ধরন জানতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত বিবরণ চেয়েছে এনবিআর।
যাদের ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানিয়েছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। তালিকায় রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের নাম রয়েছে। তাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নামও গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তালিকায় থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বাহাউদ্দিন নাছিম, সালমান এফ রহমান, আবদুস সালাম মুর্শেদী, টিপু মুনশি, শাহরিয়ার আলম, নসরুল হামিদ ও তাজুল ইসলাম। ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন তুষুকা গ্রুপের ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের আবদুস সালাম, নিপা গ্রুপের খসরু চৌধুরী এবং স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের এ কে এম মোশাররফ হোসাইন। এ ছাড়া বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচির নামও রয়েছে তালিকায়। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ কারাগারে রয়েছেন, কেউ কেউ পলাতক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘কিছু সরকারি সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর বাইরে আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের তথ্যও চেয়েছি। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অর্থের উৎস ও লেনদেনের ধরন অনুসন্ধানেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’




