সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে হবে
অনলাইন ডেস্ক

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলার অন্যতম কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি। সম্প্রতি জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান।
গতকাল বুধবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আইরিন খান। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ দূত।
ডয়েচে ভেলেকে আইরিন খান বললেন, অতীতে বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাংবাদিক ও ভিন্নমতের মানুষের বিরুদ্ধে বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেকেই বেপোরোয়াভাবে ধরেছে। অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। এখন আগের থেকে অবস্থাটা অতটা খারাপ নয়। কিন্তু সরকারের আরও কাজ করার দরকার আছে। অনেকে জেলে আছে, কিছু মামলা আছে সেগুলো সমাধান করা দরকার।
আইরিন খান দাবি করেন, আমি ব্যক্তিহতভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আশা করেছিলাম, আগের সরকারের সব ভুল সমাধান হবে। কিছু কিছু সরকারের প্র্যাকটিস, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হয়েছে। আর কিছু কিছু আমাদের সিস্টেমিক প্রব্লেম। আমাদের আইনে সেটা পরিষ্কার নেই। সেই আইনের কু-ব্যবহার হয়। এসবের উন্নতি আশা করেছিলাম।
মিডিয়া কমিশনের ব্যাপারে আইরিন খানের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকার কামাল আহমেদের নেতৃত্বে মিডিয়া কমিশন করেছিল। তার প্রস্তাবগুলো ভালো ছিল। কিন্তু সেটা কোনো ফলাফল দেখিনি। এ পরিস্থিতিকে তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
আইরিন খান জানান, বর্তমান ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় যে কেউ সহজেই অন্য কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। পুলিশও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। ব্রিটিশ আমলের এই আইনি কাঠামোর অপব্যবহার বন্ধে প্রয়োজন সিস্টেমিক সমাধান।
সাম্প্রতিক সময়ে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রসঙ্গ তুলে আইরিন খান বলেছেন, এটি কোনো তাৎক্ষণিক জনরোষের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত হামলা বলে তার কাছে মনে হয়েছে। আমি বলছি না, কখনও কোনো সাংবাদিক ভুল করতে পারে না। কিন্তু প্রত্যেকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকারটাকে সম্মান করা উচিত। যারা ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম করছে তাদের বিরুদ্ধে কেস আসলে তখন একটু সাবধানে দেখা উচিত সরকারের। এটা প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য কেস কিনা- সেটাও দেখা উচিত। অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চার্জ আছে। সেগুলোর দ্রুত সমাধান দরকার। জেনুইন কেস ছাড়া যেন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা বা হয়রানি না করা হয়, সে ব্যাপারে সরকারের সতর্ক থাকা উচিত।
কেবল সরকার বদলানোই যথেষ্ট নয়, পুরো সিস্টেমের পরিবর্তন না হলে এই ধরনের সমস্যা চলতেই থাকবে বলেও দাবি করেন আইরিন খান।






