সফটওয়্যার আপডেটের ফাঁদে উধাও ৯ লাখ টাকা
- ফেসবুক-টেলিগ্রামে সক্রিয় আন্তর্জাতিক চক্রের সন্ধান
- ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণ করে বিদেশে পাচার হতো অর্থ

সংগৃহীত ছবি
মোবাইল ফোনে আসা একটি ‘সফটওয়্যার আপডেট’ বার্তা। সাধারণ একটি নোটিফিকেশন মনে করে সেটিতে প্রবেশ করেছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ফোনটি চলে যায় অদৃশ্য এক চক্রের নিয়ন্ত্রণে। এক এক করে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা চলে যায় বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে। স্টেটমেন্ট হাতে নিয়ে চোখ কপালে ওঠে ভুক্তভোগীর। একবারে নয়, বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে মোট ৯ লাখ ৮৬ টাকা।
সফটওয়্যার আপডেটের প্রলোভন দেখিয়ে ফিশিং লিংকের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তাররা হলেন শাহীদ আল ইমরান সৌরভ (৩৬) ও মো. সাগর হোসেন (২৮)।
আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ। তিনি জানিয়েছেন, বুধবার রাতে রংপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। এক্ষেত্রে রাত ১টা ১৫ মিনিটে রংপুরের ডিসি বাংলোর মোড়সংলগ্ন গোমস্তপাড়া এলাকা থেকে সৌরভকে এবং রাত ২টা ৩৫ মিনিটে হনুমানতলা-চিকলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাগরকে।
তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের তিনটি চেক বই, একটি ভিসা প্লাটিনাম কার্ড, একটি ভিসা ডেবিট কার্ড, একটি সিম্ফনি বাটন ফোন ও একটি ইনফিনিক্স স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, গত ২ জুন ভুক্তভোগীর ফোনে একটি আপডেট-সংক্রান্ত বার্তা আসে। বার্তাটি খোলার পর ডিভাইসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হতে শুরু করে এবং কিছু সময়ের জন্য ডিসপ্লে অচল হয়ে যায়। পরে ফোন চালু হলে তিনি জানতে পারেন, তার ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। স্টেটমেন্ট যাচাই করে দেখা যায়, মোট ৯ লাখ ৮৬ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জুন রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার নেয় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। তদন্তে ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম রংপুরে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর হোসেন সিআইডিকে জানিয়েছে, ফেসবুক ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। ওই চক্রের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণের কাজ করতেন তিনি।
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে উত্তোলন করে দেশের বাইরে থাকা সহযোগীদের কাছে পাঠানো হতো। এর বিনিময়ে কমিশন পেত চক্রের সদস্যরা।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি চক্রটির দেশি-বিদেশি অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।





