এলডিসি উত্তরণের বাড়তি ৩ বছর
সংস্কার ও ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির তাগিদ ইউরোচেমের

সংগৃহীত ছবি
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভিত্তিক ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইউরোচেম বাংলাদেশ। তবে এই বাড়তি সময়কে কাজে লাগিয়ে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত করার জোর তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।
আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইউরোচেম বাংলাদেশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৯ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রচেষ্টায় অতিরিক্ত এই সময় পাওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।
ইউরোচেম বাংলাদেশের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেছেন, বাংলাদেশ যে বাড়তি সময় পেয়েছে, তার সুফল পেতে হলে অবশ্যই দৃশ্যমান অগ্রগতির প্রতিফলন থাকতে হবে। এজন্য একটি সুস্পষ্ট সংস্কার পরিকল্পনা, জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) দিকে বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতি প্রয়োজন।
তিনি যোগ করেছেন, ‘বাজারে প্রবেশের সুযোগ যখন পূর্বানুমানযোগ্য হবে, নিয়মকানুন ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং নতুন শিল্পের বিকাশ ঘটবে, তখন ব্যবসায়ীরা আরও বেশি আস্থার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এমন একটি ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ, সম্প্রসারণ এবং সমান প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে।’
ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তুতির জন্য সমন্বিত আলোচনার অবস্থান, কারিগরি সক্ষমতা এবং বাজারে প্রবেশাধিকার, পণ্যের উৎপত্তির বিধি (রুলস অব অরিজিন) ও বাণিজ্য সহজীকরণ বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইউরোচেম।
পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে শুল্ক, কর ও লাইসেন্সসংক্রান্ত কার্যক্রমে পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং দক্ষ লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এসব ক্ষেত্রে ব্যয় কমানো গেলে বিনিয়োগ ও শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকালে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, শ্রম ও পরিবেশগত মানদণ্ডের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোচেম বাংলাদেশ। জাতিসংঘের মসৃণ উত্তরণ কৌশলের (এসটিএস) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওই পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং অগ্রগতি পর্যালোচনার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের বিভিন্ন ওয়ার্কিং গ্রুপ, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরার কাজ অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায় ইউরোচেম।



