রাজধানীর বাজারে এখনো ঈদের আমেজ, দাম আগের মতোই

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঈদের ছুটির রেশ এখনো কাটেনি রাজধানীর কাঁচাবাজারে। অনেক ব্যবসায়ী ঢাকায় না ফিরলেও বাজারে নেই সরবরাহ সংকট। বরং ক্রেতার চাপ কম থাকায় কিছুটা কমেছে সবজি, মুরগি ও ডিমের দাম। ঈদের আগের তুলনায় কমেছে কয়েকটি পণ্যের দামও, যা স্বস্তি দিচ্ছে ভোক্তাদের।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রায়সাহেব বাজার এবং হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। ঈদের এক সপ্তাহ পরও বাজারগুলোয় দেখা যায়নি দামের বড় কোনো পরিবর্তন। বরং ঈদের আগে চড়া দামে বিক্রি হওয়া পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে এখন।
রায়সাহেব বাজার ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখনো খোলেনি এখানকার নিয়মিত সবজি দোকানগুলোর একটি অংশ। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে যাওয়া অনেক বিক্রেতা এখনো ফেরেননি ঢাকায়। কেউ কেউ ফিরবেন শুক্র ও শনিবার। ফলে রবিবারের আগে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না বাজার। তবে দোকান কম থাকলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে খোলা দোকানগুলোয়। বেশিরভাগ সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে।
বর্তমানে বাজার ভেদে অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে ঢেঁড়শ, যার কেজি ৪০ টাকা। এ ছাড়া পেঁপে, সাদা বেগুন, চিচিঙ্গা, পটোল, ঝিঙে, ধুন্দল ও উচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। করলা, কাঁকরোল, কালো গোল বেগুন ও বরবটির কেজি ৮০ টাকা। সরবরাহ ভালো থাকায় লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। মৌসুমি ফল কাঁচা আম মিলছে কেজিপ্রতি ৩০ টাকায়।
স্বস্তি সালাদজাতীয় পণ্যের বাজারেও
ঈদের পর সাধারণত চাহিদা বাড়ে সালাদজাতীয় পণ্য ও কাঁচামরিচের। কিন্তু এবার সেই চাপ পড়েনি দামে। বাজারে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। লেবুর হালি আগের মতোই বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়।
কারওয়ান বাজারে এসেছিলেন চাকরিজীবী রায়হান কবির। দামের তুলনা করে বললেন, ‘ঈদে বাড়ি যাওয়ার আগে দামটা যেমন ছিল আসার পরও প্রায় তেমনই দেখছি। তবে দাম তো আগেই বাড়তি ছিল। সবজি কিনতেই পকেট শেষ হচ্ছে।’
সবজির সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই উল্লেখ করলেন হাতিরপুল বাজারের সবজি বিক্রেতা হাসান— জানালেন, ঈদের পর আগের মতোই আছে সবজির সরবরাহ। ঈদের সময় ক্রেতা একদম কম থাকলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে এখন।
মুরগি ও ডিমের বাজারে দরপতন
ঈদের পর মুরগির চাহিদা কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে দামে। ঈদের আগে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি এখন মিলছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। সোনালি মুরগির দামও কেজিতে নেমেছে প্রায় ২০ টাকা কমে ৩৬০ টাকায়। কক (লেয়ার) মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ টাকা কেজি দরে।
রায়সাহেব বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. আশরাফ জানালেন, ঈদের পর কমে যায় মুরগির চাহিদা। খামারিরা কিছুটা কমিয়ে দেয় দাম। ফলে খুচরা বাজারেও এই সময়ে কম দামে পাওয়া যায়।
মুরগির পাশাপাশি কমেছে ডিমের দামও। ঈদের আগে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে ১৩৫ টাকায়।
তবে বর্তমান বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকলেও সামনে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়লে বেড়ে যাবে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যয়ও। বিশেষ করে কৃষিপণ্য উৎপাদনে সেচ, হিমাগারে সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবহনের খরচ বাড়ার প্রভাব পড়তে পারে ভোক্তা পর্যায়ের দামেও। ফলে বর্তমানে বাজারে স্বস্তিকর পরিস্থিতি থাকলেও তা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা।




