সাড়ে ৪ বছরের প্রকল্পের ৯ বছর পার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের তিন জেলার অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া হয়েছিল একটি প্রকল্প, বাস্তবায়নের সময়সীমা ছিল সাড়ে চার বছর। কিন্তু ৯ বছর গড়ালেও শেষ হয়নি কাজ। এখন আবার প্রকল্পটি সংশোধনের জন্য উঠছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক)।
‘মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ শিরোনামের এই প্রকল্পের মেয়াদ দফায় দফায় বাড়ার সঙ্গে ব্যয়ও বেড়েছে। এখন তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদনের পর তা একনেকের আগামী বৈঠকে তোলা হবে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে।
পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছিলেন, ‘পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বেশ কিছু বাস্তব কারণে প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া সামান্য কাজ বাকি আছে। এখন যদি এটির সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া না হয়, তাহলে কাজগুলো অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।’
তার কাছ থেকে জানা গেল, গত জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৯০ দশমিক ১০ শতাংশ। ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ২৩৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা, অর্থাৎ আর্থিক অগ্রগতি ৮৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়ন করছে এই প্রকল্প। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। এর মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতেও কাজ শেষ হয়নি।
এরপর দ্বিতীয় সংশোধনী এনে আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ ধরা হয়। কিন্তু এই সময়কালেও শেষ না হওয়ায় ব্যয় বাড়ানো ছাড়া শুধু মেয়াদ ফের দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হয়।
কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে বর্ধিত এই মেয়াদেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তাই তৃতীয় সংশোধনের মাধ্যমে এক বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে।
প্রকল্প প্রস্তাব পাসের সময় এর অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১ হাজার ৫৬০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ১০৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীর সময় আরেক দফা বাড়ে ব্যয়, হয় ২ হাজার ৫১২ কোটি ২১ লাখ টাকা। এবার তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় আরও ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২ হাজার ৫১৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
তিন জেলার জন্য কেন এই প্রকল্প
এলজিইডি কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা বিভাগের জনসংখ্যার ঘনত্ব দেশের অন্যান্য বিভাগের জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। প্রকল্প এলাকাগুলো দেশের মধ্যভাগে অবস্থিত এবং এ অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের কৃষি ও অকৃষিজাত পণ্য উৎপাদিত হয়। ফলে দেশের জিডিপিতে অন্যান্য জেলার তুলনায় অবদান অনেক বেশি। এ জেলাগুলোর জনগণ একই সঙ্গে কৃষি-অকৃষিজাত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সেবা খাত সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সম্পৃক্ত। কাজেই এ অঞ্চলের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন হলে ঢাকা বিভাগে অধিক কর্মসংস্থান ঘটবে। পাশাপাশি কৃষি-অকৃষি উৎপাদন বেড়ে দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে তা প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলেও আশা করা হয় প্রকল্প প্রস্তাবে।
ঢাকা বিভাগের মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী জেলার ৯৩ দশমিক ১৪ শতাংশ উপজেলা সড়ক, ৮০ দশমিক ৭৮ শতাংশ ইউনিয়ন সড়ক এবং ১৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ গ্রাম সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে এই প্রকল্পের আওতায়।
প্রকল্পটির আওতায় তিন জেলার গ্রামীণ সড়কের পাশাপাশি সেতু, কালভার্ট নির্মাণ ও মেরামত করা হবে।
প্রকল্প সংশোধনের কারণ
প্রকল্পটি সংশোধনের কারণ হিসেবে এলজিইডি থেকে বলা হয়েছে, নেটওয়ার্ক বা কানেক্টিভিটি সম্পন্ন করার জন্য ডিপিপিভুক্ত (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) কিছু সড়কের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পাওয়া। এ ছাড়া চেইনেজ পরিবর্তনের কারণে ডিপিপিভুক্ত কিছু সড়ক, সেতু ও কালভার্টের সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটেছে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় নতুন কিছু সড়কও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি অন্য প্রকল্প হতে কিছু সড়ক, সেতু ও কালভার্টের কাজ এরই মধ্যে শেষ হওয়ায় সেগুলো ডিপিপি হতে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
সংশোধন প্রস্তাবে আরও বলা হয়, আটিটি সেতুর সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য বাড়ায় ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া দরপত্রের দরের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন হয়েছে।
প্রকল্পভুক্ত কিছু প্যাকেজে একাধিকবার দরপত্র আহ্বান, অংশগ্রহণকারী দরদাতাদের ঊর্ধ্ব দরে দরপত্র দাখিল করায় ব্যয় বৃদ্ধি এবং চলমান ও প্রস্তাবিত নতুন স্কিমগুলো বাস্তবায়নও মেয়াদ বাড়ানোর কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।






