নাগরিকদের জন্য ‘ডিজিটাল ওয়ালেট’ চালুর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

দেশের জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন ডাটাবেজের বিশাল অসঙ্গতি ও দ্বৈত তথ্য দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি সমন্বিত পরিচয় ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ এবং ‘ডিজিটাল ওয়ালেট’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান তিনি। ‘নির্ভুল নিবন্ধন নিশ্চিত করবে সুশাসন’ প্রতিপাদ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
ডাটাবেজের অসঙ্গতির চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন ডাটাবেজে (বিডিআরআইএস) বর্তমানে প্রায় ২৪ কোটি ৮৮ লাখ মানুষের জন্মনিবন্ধন এবং ৫৮ লাখ ১৯ হাজার মানুষের মৃত্যুনিবন্ধন নথিভুক্ত রয়েছে। অথচ ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি।
ডিজিটালাইজেশনের শুরুর দিকে কারিগরি ত্রুটি ও মাঠপর্যায়ের নানা অসঙ্গতির কারণে বিপুলসংখ্যক দ্বৈত নিবন্ধন তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সঠিক জনসংখ্যার তথ্য না থাকলে খাদ্য, অর্থনীতি, চিকিৎসাসহ দেশের সামগ্রিক পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। তাই জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের ডাটাবেজ দ্রুত সংশোধন করা জরুরি।
গ্রামাঞ্চলে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন নিয়ে সচেতনতা এখনো আশানুরূপ নয় বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ স্বেচ্ছায় নিবন্ধনের জন্য আসেন। বাকি ৯৫ শতাংশ স্কুলে ভর্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা সরকারি সেবা নিতে গিয়ে নিবন্ধন করতে বাধ্য হন।
নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় তারিখ পরিবর্তন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের নিবন্ধকদের ঢাকায় এনে বিশেষ বৈঠক করা হবে বলে জানান মীর শাহে আলম।
সেবা একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকার পুনরায় ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এ ব্যবস্থা চালু হলে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের মতো মৌলিক কাজগুলো ঘরে বসেই নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ।



