বই পড়ে পুরস্কার: ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে মেয়েরা

ছবি: আগামীর সময়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে ঢাকা মহানগরের স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ উৎসব শুরু হয়েছে। এতে ঢাকা মহানগরের ৭১টি স্কুলের মোট ৫ হাজার ৮২৩ শিক্ষার্থীকে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
আজ শুক্রবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী এ উৎসব সূচনা হয়। এই আয়োজনে সহযোগিতায় রয়েছে গ্রামীণফোন।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র জানায়, উৎসবে প্রতিটি স্কুলের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ‘শুভেচ্ছা’, ‘অভিনন্দন’ ও ‘সেরা পাঠক’—এই তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। ৫ হাজার ৮২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ‘শুভেচ্ছা’ পুরস্কার পেয়েছে ৪ হাজার ২৮৮ জন, ‘অভিনন্দন’ পুরস্কার পেয়েছে ১ হাজার ৩৬৭ জন এবং ‘সেরা পাঠক’ পুরস্কার পেয়েছে ১৬৮ জন।
এবার পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ছেলে ১ হাজার ১৮ জন এবং মেয়ে ৪ হাজার ৮০৫ জন। ফলে পুরস্কারজয়ীদের মধ্যে ছেলেদের চেয়ে মেয়ে শিক্ষার্থী বেশি।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। পরে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, ভালো বই পড়া এবং ইন্টারনেটের গঠনমূলক ব্যবহারই শিশুদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি আব্দুন নূর তুষার বলেন, বই এক প্রজন্মের সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মকে যুক্ত করে।
গ্রামীণফোন লিমিটেডের চিফ টেকনোলজি অফিসার আবুল কাশেম মহিউদ্দিন আল-আমিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষসাধনের লক্ষ্যে গত দুই দশক ধরে গ্রামীণফোন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই মহতী উদ্যোগের সহযাত্রী ও অংশীদার। আলোকিত প্রজন্ম গড়তে বই পড়ার পাশাপাশি অভিভাবক ও শিশু-কিশোরদের নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোহা. হারুন-অর-রশিদ। এর আগে স্বাগত বক্তব্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বইকে জীবনের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও কৃতজ্ঞতার দাবিদার। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়লে মনে রাখার ক্ষমতা, ভাষা দক্ষতা ও বোঝার ক্ষমতা বাড়ে এবং নিজের ভাষায় সৃজনশীল লেখা সহজ হয়।
এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোররা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এ উৎসবের আয়োজন ও পুরস্কারের বই স্পন্সর করছে গ্রামীণফোন লিমিটেড।



