৪৪ জনের চাকরি পুনর্বহাল
আগের নির্দেশ না মানায় আবারও আরইবিকে বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) অনিয়ম-দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে চাকরি হারানো পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূনবর্হাল করতে ফেব্রুয়ারিতে নির্দেশ দিয়েছিলো বিদ্যুৎ বিভাগ। কিন্তু ৫ মাসেও তা কার্যকর হয়নি। তাদের চাকরি পুনর্বহালে বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে নতুন করে আবার চিঠি দেওয়া হয়েছে আরইবিকে।
গত বৃহস্পতিবার উপসচিব মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ এসোসিয়েশন হতে পাওয়া আবেদনের বিষয়টি উল্লেখ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়কে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আরইবির ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশসহ বেশ কিছু নির্দেশনা কার্যকর করছে না আরইবি। নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থেকে তাদেরই নির্দেশনা না মানায় আরইবি’র প্রশাসনিক জবাবদিহি ও কর্তৃত্বের সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে গত পহেলা জুলাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি পুনর্বহালে বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বিদ্যুৎ সচিব বরাবর আবেদন পাঠায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ এসোসিয়েশন।
এতে বলা হয়, আরইবি’র নিম্নমানের মালামাল কেনা, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ, গ্রাহক ভোগান্তি, মাঠ পর্যায়ে জবাবদিহিতার অভাব, দুর্নীতি এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ হতে বিভিন্ন সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে বিষয়গুলো অবহিত করা হয়ে আসছে।
‘সরকার সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেও, আরইবি’র অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটিগুলো প্রকাশ্যে আসার পর সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ৪৬ জনকে কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়। এ ছাড়া প্রায় ৭৫ জনকে সাময়িক বরখাস্ত/সংযুক্ত করার পাশাপাশি ১৮০ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আরইবি। এদেরকে রিমান্ডে নেওয়াসহ বিভিন্ন মেয়াদে সর্বোচ্চ ৮৭ দিন পর্যন্ত কারাভোগে বাধ্য করা হয়। আদালত মামলাগুলোকে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তাদেরকে অব্যাহতি দিয়েছে,’ উল্লেখ করা হয় আবেদনে।
ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, একদিকে চাকরি নেই, অন্যদিকে আইনি লড়াইয়ে হয়রানি আর টাকার শ্রাদ্ধ। শেষ পর্যন্ত আদালত সব মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দিয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আরইবি আপিল করলেও তা ধোপে টেকেনি। চাকরি হারিয়ে সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা ও তাদের পরিবার।
মন্ত্রণালয়কে ভুল ব্যাখ্যা দিয়েও শাস্তি হয়নি
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে গত বছর মন্ত্রণালয়কে বাপবিবো আইন, ২০১৩-এর ২৯ ধারাকে ভুল ব্যাখ্যা দেন আরইবির ৬ কর্মকর্তা। পরবর্তীতে তা প্রমাণ হলে তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয়নি আরইবি।
পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানের সংকট সমাধানে মন্ত্রণালয় দুটি কমিটি গঠন করেছিল। কমিটির বেশ কিছু সুপারিশ করে। যার বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়নি এখন পর্যন্ত।
এ বিষয়ে জানতে আরইবির সদস্য (প্রশাসন) ও সমিতি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত নাজমুস সায়াদাতের দুটো মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মোশাহিদা সুলতানা আগামীর সময়কে বলছিলেন, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ওপর আধিপত্য চর্চার সংস্কৃতি তৈরি করেছে আরইবি। কর্মীদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করেছে। আদালত মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং মন্ত্রণালয়েরও নির্দেশনা রয়েছে। এখন এসব কর্মীদের ক্ষতিপূরণসহ চাকরিতে পুনর্বহাল করা উচিত আরইবির।
তার অভিযোগ, আরইবিতে দুর্নীতি আখড়া তৈরি হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও ব্যক্তির স্বার্থ জড়িত। যে কারণেই হয়তো মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
দেশের ৪ কোটি ৯৭ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে ৩ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহক আরইবির। সংস্থাটি দেশজুড়ে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। মূলত মাঠপর্যায়ে থেকে মূল কাজ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। আর তদারকির দায়িত্ব পালন করে আরইবি।




