বাবা-মায়ের পর বিশ্বমঞ্চে তারেক রহমান
- অংশ নিলেন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে
- ভাষণে তুলে ধরবেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বরাজনীতির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। যেখানে বিশ্বের সব সদস্য রাষ্ট্রের থাকে সমান প্রতিনিধিত্ব। সেই আসরের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ১৯৮০ সালের আগস্টে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এরপর ৪৮তম অধিবেশনে ১৯৯৩ সালের অক্টোবরে যোগ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এবার সেই আসরে যোগ দিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যিনি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে।
গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ‘নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জ’-এ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। এর আগে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে প্রাতরাশে অংশ নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মঞ্চে নিজের ভাষণে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা দেবেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে তুলে ধরবেন বাংলােদশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই হবে জাতিসংঘে তার প্রথম ভাষণ এবং প্রথা অনুযায়ী তিনি বাংলায় বক্তব্য দেবেন। অধিবেশনের পাশাপাশি সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎও করবেন।
সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এবারের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে। এ ছাড়া সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে (জেনারেল ডিবেট) বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। যেখানে বিশ্ব শান্তিরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরবেন তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে নাশতার টেবিলে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে (ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট) অংশ নিয়েছেন। যার মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের আনুষ্ঠানিক ও ব্যস্ত সফরসূচি শুরু হলো। জাতিসংঘ মহাসচিব স্থানীয় সময় গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে এই প্রাতরাশ সভার আয়োজন করেন।
প্রাতরাশের শুরুতে বিশ্বনেতারা একে একে তাদের সহধর্মিণীদের নিয়ে অনুষ্ঠান মঞ্চে ওঠেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে সেই মঞ্চে উঠে ফটোসেশনে অংশ নেন। এ ছাড়া আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন এবং ফটোসেশনে অংশ নেন।
প্রাতরাশ শেষে সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বললেন, ‘দেশপ্রেম, আবেগ, অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প কী হওয়া উচিত, কীভাবে বাংলাদেশের স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে— সেগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর পর গত সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ঐতিহাসিক সফরে নিউ ইয়র্কে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন, যা একটি ইতিহাসের অংশ।’ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বললেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষে নিজেদের অবস্থান, ভিশন ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আজকে তাদের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠিক একইভাবে বাবা-মায়ের মতো দেশপ্রেমকে ধারণ করে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকারের কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।’ আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ উপস্থাপন করবেন বলে জানান মাহদী আমিন।
সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা কোনো বৈঠকের সুযোগ আছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান। তাই আলাদা করে এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার তেমন সুযোগ হবে না।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করেছেন মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহামেদ লতিফ এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। গতকাল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাইড লাইনে অনুষ্ঠিত হয় এই দুই বৈঠক। তাদের মধ্যে প্রথমে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট। পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী।
উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৈঠক দুটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে মালদ্বীপ ও ভুটানের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারসহ দেশ দুটির সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণে বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।



