নভেম্বরের শেষেই জেঁকে বসতে পারে শীত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নভেম্বরের শুরুতেই দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে শীতের অনুভূতি। মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আরও কমতে পারে তাপমাত্রা। বিশেষ করে নভেম্বরের শেষদিকে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে ১০ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কোথাও কোথাও ঘন কুয়াশার কারণে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও শীতের অনুভূতি হতে পারে তীব্র। আবহাওয়াবিদদের মতে, বাতাসের প্রবাহের দিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে কমবে দিনের ভ্যাপসা গরমও।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, সাধারণত তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর নিচে নামতে শুরু করলে মানুষের মধ্যে হালকা শীতের অনুভূতি তৈরি হয়। এরই মধ্যে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুর বিভাগের অন্যান্য এলাকায় তাপমাত্রা রয়েছে ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রির মধ্যে।
তার ভাষ্য, বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি— এ তিন মাসকে শীতকাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে নভেম্বরের শুরু থেকেই রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় শীতের অনুভূতি দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তার ভাষ্য, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা বিভাগের যশোর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা এবং ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর নিচে নামলে সাধারণত শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি হলে মৃদু, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি এবং ৬ ডিগ্রির নিচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শৈত্যপ্রবাহ কখনো পাঁচ থেকে সাত দিন স্থায়ী হতে পারে।
তবে শৈত্যপ্রবাহ ছাড়াও ঘন কুয়াশার কারণে তীব্র শীত অনুভূত হতে পারে। আকাশ সারা দিন কুয়াশায় ঢাকা থাকলে সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌঁছায় না, ফলে দিনের তাপমাত্রাও খুব একটা বাড়ে না। এ পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘কোল্ড ডে কন্ডিশন’। এতে ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও ৫ থেকে ৭ ডিগ্রির মতো শীত অনুভূত হতে পারে। ভারতের দিল্লি থেকে বাংলাদেশের কুমিল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে— জানালেন এ আবহাওয়াবিদ।
বাতাসের দিক পরিবর্তনের কারণেও শীত বাড়তে পারে। দক্ষিণ দিক থেকে সমুদ্রের বাতাস প্রবেশ করলে জলীয় বাষ্প বেড়ে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়। অন্যদিকে উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে স্থলভাগের বাতাস প্রবেশ করলে আর্দ্রতা কমে শীতের অনুভূতি বাড়ে। ১০ নভেম্বরের পর বাতাসের প্রবাহ পরিবর্তিত হতে পারে বলে মনে করেন এ কে এম নাজমুল হক।
ঢাকায় শীতের অনুভূতি তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলছিলেন, ‘ঘনবসতিপূর্ণ নগরাঞ্চলে ইট-পাথর, কংক্রিটের ভবন ও রাস্তাঘাট তাপ ধরে রাখে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহারও নগরাঞ্চলের তাপমাত্রায় প্রভাব ফেলে। ঢাকায় ডিসেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।’
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নভেম্বর মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে বিভাগভেদে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হতে পারে ৪ থেকে ৪০ মিলিমিটার। চট্টগ্রামে ৩৫ থেকে ৪০, বরিশালে ৩০ থেকে ৪০, ঢাকায় ১৫ থেকে ২৫, সিলেট ও খুলনায় ১৫ থেকে ২৫, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে ১০ থেকে ১৫ এবং রংপুরে ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
নভেম্বর মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমলেও স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও এবং নদী অববাহিকায় ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং গড় উজ্জ্বল সূর্যকিরণকাল ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা থাকতে পারে। এর আগে অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসে স্বাভাবিক ১৭৯ মিলিমিটারের বিপরীতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ৫৭ মিলিমিটার। স্বাভাবিক ১৬ দিনের পরিবর্তে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র পাঁচ দিন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস মতে, নভেম্বর মাসে বৃষ্টিপাত কম হলেও বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে।



