গ্রামের ঘরে ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেবে ডায়াবেটিক সমিতি

দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও সচেতনতামূলক সেবা পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস)। শহরকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা গ্রামাঞ্চলে সম্প্রসারণের পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে বিআইএইচএস হাসপাতালে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সভায় এসব কথা জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান।
তিনি বলেছেন, দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারিত হলেও অধিকাংশ সেবা এখনো শহরকেন্দ্রিক। তাই দ্রুত এসব সেবা গ্রামীণ জনপদে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে মানুষের ঘরে ঘরে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহজলভ্য করতে হবে।
অধ্যাপক আজাদ খান আরও বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো ডায়াবেটিস সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতন নন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেকে সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারেন না এবং চিকিৎসা নিতেও দেরি করেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদরোগ, কিডনির জটিলতা, চোখের সমস্যা ও স্নায়ুজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
তিনি বলেন, ডায়াবেটিসকে শুধু চিকিৎসাযোগ্য রোগ হিসেবে দেখলে হবে না। এটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তাই রোগ শনাক্তকরণ, নিয়মিত চিকিৎসা, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ সমন্বিতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষও যেন সহজে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পান, সেটিই হওয়া উচিত লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, রাজধানীর বারডেমে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মিরপুরের বিআইএইচএস ভবনে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
অধ্যাপক আজাদ খান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা, প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব। বক্তব্য দেন সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ ও সরকারের সিনিয়র সচিব শহিদুল ইসলাম এবং জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য মতিউর রহমান লালটু, হেমায়েত উদ্দিন ও ওয়াহিদুল ইসলামসহ সমিতির অন্যান্য নেতা।
সভায় ডায়াবেটিসের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, রোগপ্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।




