আদ্-দ্বীনে এখনো ভর্তি ১৫২ রোগী

ঢাকার মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে রোগীদের সরিয়ে নিতে গত শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু সেখানে এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৫২ জন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীদের শারীরিক অবস্থা, অন্য হাসপাতালে শয্যাসংকট এবং মানবিক কারণ বিবেচনায় তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গত শনিবার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ২৩৪ জন। গতকাল রবিবার সে সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৫২ জনে। যার মধ্যে এনআইসিইউতে ৩২, আইসিইউ ও এইচডিইউতে ৭ এবং সিসিইউতে ৪ জন।
এখনো কেন রোগী ভর্তি রয়েছে জানতে চাইলে হাসপাতালটির পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল আগামীর সময়কে বললেন, ‘আমরা রোগীদের অন্যত্র যাওয়ার জন্য বলছি। কিন্তু অনেকেই যেতে পারছেন না। কারও অবস্থা গুরুতর, আবার অনেকে অন্য হাসপাতালে সিট পাচ্ছেন না। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের রাখা হয়েছে।’
‘যদি আমরা জোর করে বের করে দিই এবং পরে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে সেই দায় কে নেবে? বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই বর্তাবে’— যোগ করলেন তিনি।
গতকাল বিকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল, ১ নম্বর গেট থেকে ৩ নম্বর পর্যন্ত ১৭টি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে আছে। ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন ফার্মেসি খোলা থাকলেও হাসপাতালের অধিকাংশ সেবা বন্ধ। বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা রোগী ও স্বজনরা ফিরে যাচ্ছিলেন। তবে যারা আগে পরীক্ষা করতে দিয়েছেন তারা রিপোর্ট নিতে পারছেন।
রোগী ও সঙ্গে আসা বেশ কয়েকজন স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ‘কম খরচের’ হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে। অন্য কোনো উপায়ে শাস্তি দেওয়া যেত কি না, সে প্রশ্নও রাখলেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অন্য হাসপাতালে সংযুক্তের নির্দেশ: হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের অন্য হাসপাতালে সংযুক্ত করতে আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজকে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন বললেন, ‘হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হলেও মেডিকেল কলেজ বন্ধ হচ্ছে না। আমরা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য অন্য হাসপাতালে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিচ্ছি। মেডিকেল কলেজটিকে যেকোনো জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করতে হবে। তারা নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের ওই হাসপাতালে নিয়ে যাবে এবং নিয়ে আসবে। তারা কোন হাসপাতালের সঙ্গে কাজ করতে চায়, তা আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে আমাদের জানাতে হবে।’


