আগামীর সময়

টিকার অভাবে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়লে আইনি ব্যবস্থার দাবি

টিকার অভাবে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়লে আইনি ব্যবস্থার দাবি

ছবিঃ আগামীর সময়

ক্রয় সংক্রান্ত জটিলতায় টিকার অভাবে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়লে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে দেশে 'হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব ও করণীয়' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়। নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী এবং বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরেন। তারা টিকাদান কর্মসূচির জোরদারকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা উন্নয়ন এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন। 

টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে একজন বক্তা দাবি করেন, ক্রয় সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যদি আজ হামের প্রাদুর্ভাব এত বৃদ্ধি পায় এবং তা যদি শিশু মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকে, তবে এর সঙ্গে জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। 

অতিথিরা টিকাদান কর্মসূচির সাথে জড়িত স্বাস্থ্য কর্মীদের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে দাবি-দাওয়া আদায়ের আন্দোলনে যেন জনদুর্ভোগ না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বাংলাদেশে হামের এই প্রাদুর্ভাব নতুন কোনো ধরনের ভাইরাস মিউটেশনের জন্য হচ্ছে কিনা, সে জন্য গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসাথে কীভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়াকে ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়, তার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয় বর্তমান এই পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধ করার জন্য। গোলটেবিল বৈঠকে  আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ও সুপারিশসমূহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারকে অবহিত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের সময়োপযোগী আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এ সময় বক্তব্য রাখেন ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ নাজমুল হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ ফোয়ারা তাসমিম, শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ হানিফ, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ ফিরোজা বেগম, বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিক, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও সাহিত্যিক আনিসুল হক, গবেষক ও রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা, বিএমইউর শিশু রোগ বিভাগের ডীন অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আতিয়ার রহমান, শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ ইয়ামিন শাহরিয়ার চৌধুরী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডাঃ তৌহিদ ইসলাম, বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা: মো: নজরুল ইসলাম, বিএমইউর এনেস্থিসিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মোস্তফা কামাল, বিএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ সাইফ উল্লাহ মুন্সী, শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবিদ হোসেন মোল্লা, ইপিআই-এর সাবেক প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা: মোঃ তাজুল ইসলাম এ. বারী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্ভিলেন্স অফিসার মো: আরিফুর রহমান, দৈনিক কালবেলার হেলথ এডিটর রাশেদ রাব্বি, ইউনিসেফের প্রতিনিধি ডাঃ হাসানুজ্জামান, জাহিদ শাহেদ, প্রথম আলোর সাংবাদিক শিশির মোড়ল, সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশের সদস্য সচিব ডাঃ শামীম তালুকদার এবং অধ্যাপক ডাঃ সাকলায়েন রাসেলসহ অনেকে।

    শেয়ার করুন: