অস্থায়ী হাসপাতাল কমাতে পারে মৃত্যু

দেশে হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি এখন মহামারী পর্যায়ে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। চলতি মাসে দিনে মারা যাচ্ছে গড়ে ১৫ শিশু, যা গত মাসে ছিল ৯ জন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামে শিশুমৃত্যু অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি। সংক্রমণ এখন আর ঠেকানো যাবে না। তাই গুরুত্ব দিতে হবে শিশুমৃত্যু কমানোর ওপর। আর এজন্য দরকার জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরির। সংকটাপন্ন হওয়ার আগেই রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনতে কমিউনিটি সেন্টার, খালি ভবন বা মার্কেটে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী হাসপাতাল গড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেনের মতে, হাম মহামারী পর্যায়ে চলে গেছে। সংক্রমণ হবেই। হামে আক্রান্ত হলেও যাতে মৃত্যু না হয়, সেদিকে দিতে হবে নজর। এর অংশ হিসেবে রোগী সংকটাপন্ন হওয়ার আগেই নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
দেশে নতুন করে প্রাদুর্ভাব শুরু হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হিসাব রাখছে হাম সংক্রমণের। অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৪৫ জনে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর এ েরাগটিতে ৮৭ শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সরকার। এ সময়ে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৪ হাজার ৯৪০ জন।
১০ মাসের মোহাম্মদ বায়েজিদ ১০ দিন রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি থেকে হামের চিকিৎসা নিয়েছে। একই সময়ে বায়েজিদের দুই বড় ভাইবোনের সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগটির চিকিৎসা চলেছে। বায়েজিদের মা খাদিজা বেগম বলছিলেন, প্রথমে বায়েজিদের হাম হয়। এরপর দুই ছেলেমেয়ের। হাম যে ছোঁয়াচে তিনি জানতেন না তা। দুই শহরে চিকিৎসা চালাতে তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। পয়সাও খরচে হয়েছে ঢের।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, হাম উচ্চ সংক্রামক রোগ। একজন হামে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে আরও ১২ থেকে ১৮ জনের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। ফলে আসছে ঈদে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। শুধু হাসপাতালের মাধ্যমে এখন আর হামের রোগীদের সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব নয়। কমিউনিটি পর্যায়ে তৈরি করতে হবে অস্থায়ী হাসপাতাল। আর কমিউনিটিতে কোনো ব্যক্তি বা শিশুর জ্বর হলেই সেখানে আইসোলেশনে নিতে হবে।
জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন বলছেন, হামে শিশুমৃত্যুর বড় কারণ অপুষ্টি। গ্রাম-শহরের দরিদ্র, ভাসমান, বস্তি এলাকার জনগোষ্ঠীর শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে। কেউ এতে আক্রান্ত হলে পারিবারিকভাবে তাদের পক্ষে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। এজন্য সারা দেশের হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় তাঁবু গেড়ে তৈরি করতে হবে হাসপাতাল। এতে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারবেন। আবার হাসপাতালে রোগীর চাপও কমবে।
চার দশকের বেশি সময় জনস্বাস্থ্য বিষয়ে কাজ করছেন মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি অবশ্য বলছেন, অস্থায়ী হাসপাতাল তাঁবু গেড়ে হতে পারে। সেক্ষেত্রে আইসিডিডিআর’বির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পরে। এ ছাড়া দেশের কমিউনিটি সেন্টার, কোনো বড় ভবন বা মার্কেটেও হাসপাতাল তৈরি করা যেতে পারে। যেখানে সব স্বাস্থ্যসেবা মিলবে।






