ডেঙ্গু
জুনের চেয়ে ভয়ংকর জুলাই মৃত্যু ছাড়াল ৫০
- জুনে ১৩ মৃত্যু
- জুলাইয়ে ২৯ দিনে ৩২
- চলতি বছর মোট আক্রান্ত ১৪৬৯০
- আক্রান্তের ৩৮% মৃতের ৬০% নারী

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই মাসের ২৯ দিনে মারা গেছেন ৩২ জন, যা মোট মৃতের ৬৪ শতাংশ। জুনের তুলনায় জুলাইয়ে আরও ভয়াবহ হয়েছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। জুনে মারা গিয়েছিলেন ১৩ জন, ২৬ শতাংশ। বাকি পাঁচ মাসে মারা গেছেন পাঁচজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। তাদের দুজন নারী, একজন পুরুষ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলছেন, ‘এবার আগেভাগে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ জুলাইয়ে বাড়বে— এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। ভয়াবহতা সামনের দিকে আরও বাড়তে পারে। ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক নয়, সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে প্রতিরোধের ওপর।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য আরও বলছে, শুধু মৃত্যু নয়, জুলাইয়ে আগের তুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তও কয়েক গুণ বেড়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে অাক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৬৯০ জন। এর মধ্যে জুলাইয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৫৮৫ জন, যা মোট আক্রান্তের ৫৮ শতাংশ। জুনে আক্রান্ত ছিল ৩ হাজারের কম, ২০ শতাংশ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কমিউনিটিকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে। সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা দরকার। কমিউনিটি পর্যায়ে রোগ না কমলে সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে, মৃতের সংখ্যা বাড়বে। একই সঙ্গে মশা ও মশার লার্ভাও খুঁজে ধ্বংস করতে হবে।
আক্রান্তের তুলনায় নারীদের মৃত্যু বেশি
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত ৯ হাজার ৩৯ জন পুরুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ২০ জন। অন্যদিকে একই সময়ে ৫ হাজার ৬৪৬ জন নারী আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ৩০ জন। মশাবাহিত এ রোগে পুরুষরা আক্রান্ত বেশি হলেও নারীদের মৃত্যুহার বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের ৩৮ শতাংশ নারী। অথচ মৃত্যুহার ৬০ শতাংশ।
মোহাম্মদপুরের ৩২ বছরের এক নারী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত সোমবার মারা যান। তার সাড়ে চার এবং দুই বছরের দুটি শিশু রয়েছে। গৃহিণী এই নারীর স্বামী অটোরিকশাচালক। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার এক সপ্তাহ পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার এক দিন পরই তিনি মারা যান।
এ নারীর মৃত্যুর বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরী বলেছেন, ‘কভিডের পর দেশে মানুষের মধ্যে পুষ্টিহীনতা বেড়েছে, যার একটা প্রভাব সামগ্রিকভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর পড়েছে। আর পুষ্টির আঘাত প্রথম আসে নারীদের ওপর। তারা পরিবারের সবাইকে খাবার খাইয়ে নিজেরা খান। ফলে পুষ্টিহীনতা নারীদের মধ্যে বেশি, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। ফলে যেকোনো রোগের ক্ষেত্রে তারা পুরুষের তুলনায় বেশি নাজুক অবস্থায় থাকে, মারা যায় বেশি।’
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলছিলেন, বাংলাদেশে সাধারণত কারোরই চিকিৎসা বাজেট থাকে না। তারপরও উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে বাঁিচয়ে রাখতে সাধারণত বেশি খরচ করা হয়। সেক্ষেত্রে নারীর আয় না থাকায় অসুস্থতার বেলায় তার জন্য খরচ কম করার প্রবণতা থাকে, অনেক সময় হাসপাতালে নিতে দেরি হয়। এ কারণেও নারীদের মৃত্যুহার বাড়তে পারে।






