চিকিৎসায় নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের বিকল্প নেই: বিএমইউ উপাচার্য

ছবি: আগামীর সময়
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ ও এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেছেন, রোবোটিক সার্জারির মতো আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগে অস্ত্রোপচার আরও সূক্ষ্ম, নির্ভুল ও উন্নত করা সম্ভব।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম চীনের সাংহাইয়ের পুডং গংলি হাসপাতালে রোবোটিক সার্জারির ওপর বিশেষ উচ্চতর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন। গত ২৫-৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে তিনি রোবোটিক সার্জারির আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবহারিক প্রয়োগ ও উন্নত অস্ত্রোপচার পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান ও হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করায় পুডং গংলি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া সনদ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বুধবারের অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী ওই সনদ অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলামের হাতে তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেছেন, বিশ্ব জুড়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্ভাবন যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে রোবোটিক সার্জারি আধুনিক অস্ত্রোপচারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এ প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে আরও সূক্ষ্ম ও নির্ভুল অস্ত্রোপচার সম্ভব। তাই দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশে রোবোটিক সার্জারির যাত্রা শুরু হওয়া চিকিৎসা খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে শুধু অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করলেই হবে না, এসব প্রযুক্তি পরিচালনা ও ব্যবহারের জন্য দক্ষ জনবলও তৈরি করতে হবে। চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা এবং উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলামের মতো অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ অর্জন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিএমইউ উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তির প্রয়োগেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, রোবোটিক সার্জারির মতো উন্নত প্রযুক্তিতে দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। চীনের পুডং গংলি হাসপাতালের সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের চিকিৎসা ও চিকিৎসাশিক্ষা খাতের সম্পর্ক আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। এ প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও রোবোটিক সার্জারির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপাচার্য আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সুফল যেন শুধু সীমিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। দেশের সাধারণ মানুষও যেন উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষ জনবল তৈরি, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ে বাংলাদেশে রোবোটিক সার্জারির ভবিষ্যৎ আরও সম্ভাবনাময় হবে।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি এবং সনদ হস্তান্তরের আয়োজন করায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশের চিকিৎসাশিক্ষা ও আধুনিক অস্ত্রোপচার পদ্ধতির উন্নয়নে কাজে লাগাতে চান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী এবং বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. ইরতেকা রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, চিকিৎসক ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।



