পর্যটনমন্ত্রী
জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান উন্নীত করতে চাই ৯ শতাংশে

ছবি: আগামীর সময়
দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মন্ত্রীর ভাষ্য, এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত সেবা, কার্যকর বিপণন এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ব্যবস্থাপনা। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া পর্যটনশিল্পের টেকসই বিকাশ সম্ভব নয়।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকায় ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পর্যটনমন্ত্রী।
তিন দিনব্যাপী এ মেলায় ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা অংশ নিয়েছে। প্রায় ৩০০ স্টলে বিভিন্ন দেশের পর্যটন গন্তব্য, পর্যটনপণ্য, সেবা ও বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। বললেন, দেশের রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়, ঝরনা ও হ্রদ। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের আন্তরিকতা, উষ্ণ আতিথেয়তা ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতিও পর্যটনের বড় সম্পদ।
‘বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা শুধু কয়েকটি পরিচিত গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও মানুষের গল্প। এসব বৈচিত্র্যময় সম্ভাবনাকে একটি সুপরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটনশিল্পে রূপান্তর করাই এখন সরকারের লক্ষ্য’—যোগ করেন পর্যটনমন্ত্রী।
বর্তমান সরকারের পর্যটন খাতের উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বললেন, একটি ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ ও গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের পর্যটনসম্পদকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এনে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে।
কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য, বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো, সেবা, বিনোদন ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, নতুন পর্যটন নীতিমালায় বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন খাতে শৃঙ্খলার ঘাটতি অর্থনীতিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গত দুই দশকে পর্যটন খাতে কাঙ্ক্ষিত ও দৃশ্যমান উন্নয়ন উদ্যোগেরও ঘাটতি ছিল।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শূন্য থেকে শুরু করছি, কিন্তু আশাবাদ নিয়ে শুরু করছি। আমাদের মূলমন্ত্র হলো, আগামীকাল নয়, শুরু হোক এখনই।’
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারী সংস্থার স্টল পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলালসহ নেপাল, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতরা।



