সুতা ব্যবসায়ীর ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি

নারায়ণগঞ্জের জামাল ইয়ার্ন ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকার মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির অভিযোগে মামলা করেছে নারায়ণগঞ্জ কাস্টমস অফিস। ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সুতা বিক্রির তথ্য ও হিসাবপত্র পর্যালোচনা করে এ অনিয়মের তথ্য পেয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
প্রতিষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জ সদর থানার টানবাজার এলাকার এস এম মালেহ রোডের ৫৬ নম্বর ঠিকানায় অবস্থিত। এটি সুতা আমদানি ও সরবরাহের ব্যবসা করে। আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে আকস্মিক পরিদর্শন চালান কর্মকর্তারা। এ সময় মজুদ পণ্য ও হিসাবপত্র পরীক্ষা করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে পারেনি। পরে বিভিন্ন রেজিস্টার খাতা, চালান বই, গার্ড ফাইল, কম্পিউটার থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের এক্সেল কপি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির স্বাক্ষরযুক্ত একটি নথি জব্দ করা হয়।
জব্দ করা নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সুতা বিক্রির পরিমাণ ৬৫৯ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৫৯১ টাকা। এসব বিক্রির বিপরীতে ৫ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে প্রযোজ্য ভ্যাটের পরিমাণ ৪০ কোটি ৪০ লাখ ৪৪ হাজার ৪৪২ টাকা। তবে প্রতিষ্ঠানটি পণ্য বিক্রির সময় মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ অনুযায়ী ভ্যাট চালান ইস্যু করেনি বলে জানিয়েছে কমিশনারেট।
অন্যদিকে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দাখিল করা ভ্যাট রিটার্নে প্রতিষ্ঠানটি মোট বিক্রি দেখিয়েছে ৩৯ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৩০ টাকা। একই সময়ে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে মাত্র ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা।
কমিশনারেটের হিসাব অনুযায়ী, প্রযোজ্য ভ্যাটের বিপরীতে জমা দেওয়া অর্থ বাদ দেওয়ার পর সরকারের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকা।
এ ঘটনায় মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ১৫, ৩২, ৪৫, ৪৯ ও ৬৪ ধারা এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের পাশাপাশি জরিমানা ও সুদ আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট নারায়ণগঞ্জ শাখা।



