নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রধানমন্ত্রী
কোনো অবস্থাতেই গায়ে দাগ লাগানো যাবে না

সংগৃহীত ছবি
সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত দলীয় নেতাদের শতভাগ সততা, আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, দায়িত্ব পালনকালে কোনো অবস্থাতেই গায়ে দাগ লাগানো যাবে না। এমনটা হলে সরকার সেটা বরদাশত করবে না।
গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক নেতা জানিয়েছেন এ তথ্য।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে বিএনপির ১১ নেতাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য এই দায়িত্ব পালন করবেন তারা। গত বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত পৃথক ১১টি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় এ তথ্য। এ ছাড়া পৃথক প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন সামসুল আলম। আজ রবিবার সরকারি সংশ্লিষ্ট এসব পদে যোগদান করেন তারা।
বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মনিটরিং করছেন তিনি নিজে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত দলের এসব নেতাও প্রধানমন্ত্রীর এই নীতির আওতায় থাকবেন।
সূত্র মতে, বৈঠকে নিয়োগপ্রাপ্ত বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আপনারা সবাই শতভাগ সফল হবেন, এমনটা বলছি না। তবে দায়িত্বে থাকাকালে কোনো অবস্থানেই গায়ে দাগ লাগানো যাবে না। যাবে না সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দলকে কলঙ্কিত করা। কারও বিরুদ্ধে কোনো অপকর্ম-দুর্নীতির অভিযোগ পেলে জিজ্ঞাসা করব না, সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাব।’
এ সময় নেতাদের সরকারি দায়িত্ব পালনকালে নিয়মের মধ্য থেকে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকারপ্রধান আরও বললেন, আস্থা-বিশ্বাসের জায়গা থেকে তোমাদেরকে এই দায়িত্ব দিয়েছি। আশা করি, তোমরা সেই আস্থার প্রতিদান দেবে। তখন নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আপনি যেমন বিশ্বাস করে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরাও আপনার সেই বিশ্বাসের মান রাখব। সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।
বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সালাহ্উদ্দিন সরকার, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান আবদুল বারী ড্যানী, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান আবদুল খালেক, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু), বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান (সুরুজ), বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যান মামুন হাসান, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব কামরুজ্জামান দুলাল, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন (সিদ্দিকী) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও ছিলেন।






