রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
যে ডানায় বাঁচত বন, সেই গল্প এখন হারিয়ে যাচ্ছে

যে ডানায় বাঁচত বন, সেই গল্প এখন হারিয়ে যাচ্ছে

রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
  • বেটা
  • সর্বশেষ
  • ইপেপার
EN
  • বেটা
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিশ্ব
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • চট্টগ্রাম
  • শিক্ষা
  • বিচিত্রা
  • ইপেপার
  • EN

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলীগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় পরিবেশ

বিপন্ন ফড়িং

যে ডানায় বাঁচত বন, সেই গল্প এখন হারিয়ে যাচ্ছে

বিবিসিপ্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ২০:০৩
যে ডানায় বাঁচত বন, সেই গল্প এখন হারিয়ে যাচ্ছে

সংগৃহীত ছবি

ভারতের পশ্চিমঘাট। দীর্ঘ প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এক প্রাচীন পর্বতমালা। এটি শুধু ভৌগোলিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, জীববৈচিত্র্যের দিক থেকেও পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত এই পর্বতমালায় রয়েছে অসংখ্য উদ্ভিদ, প্রাণী ও পোকামাকড়ের আবাস।

এর অনেক প্রজাতিই একেবারেই স্থানিক। অর্থাৎ পৃথিবীর আর কোথাও এদের দেখা যায় না। এই সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্রের ভেতরেই এখন ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে এক নীরব সংকট। হারিয়ে যাচ্ছে ফড়িং ও ড্যামসেল-ফ্লাইয়ের মতো ক্ষুদ্র কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীরা।

নিঃশব্দে হারিয়ে যাচ্ছে পরিচিত মুখ

ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অর্থায়নে ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পশ্চিমঘাটের পাঁচটি রাজ্যে পরিচালিত এক বিস্তৃত গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষণায় জানা যায়, এই অঞ্চলে মোট ১৪৩ প্রজাতির ফড়িং ও ড্যামসেল-ফ্লাইয়ের আবাস রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪০টি প্রজাতি শুধুমাত্র পশ্চিমঘাটেই পাওয়া যায়।

কিন্তু এই বৈচিত্র্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বিপদের ইঙ্গিত। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৩৫ শতাংশ প্রজাতির আর কোনো সন্ধান মিলছে না। আগে নথিভুক্ত অন্তত ৭৯টি প্রজাতি বর্তমানে অনুপস্থিত। এই অনুপস্থিতি সাময়িক, নাকি স্থায়ী সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।

গবেষক ও বিবর্তনীয় পরিবেশবিদ পঙ্কজ কোপার্ডে বলছেন, কিছু প্রজাতি হয়তো খুবই বিরল অথবা নির্দিষ্ট মৌসুমে স্বল্প সময়ের জন্য দেখা যায়। ফলে সেগুলো গবেষকদের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, অনেক প্রজাতি হয়তো ইতোমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিংবা রয়েছে বিলুপ্তির পথে।

ছোট প্রাণ, বড় বার্তা

ফড়িং ও ড্যামসেল-ফ্লাইকে সাধারণ চোখে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও, পরিবেশবিজ্ঞানীদের কাছে এরা অত্যন্ত মূল্যবান। কারণ, এদের বলা হয় ‘বায়ো-ইন্ডিকেটর’ বা পরিবেশের স্বাস্থ্য নির্দেশক।

অর্থাৎ কোনো এলাকায় এই পোকামাকড়ের উপস্থিতি জানিয়ে দেয়, সেই পরিবেশ কতটা সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ। তাই এদের সংখ্যা কমে যাওয়া মানে শুধু একটি প্রজাতির হারিয়ে যাওয়া নয় বরং পুরো বাস্তুতন্ত্রে অস্থিরতা তৈরি হওয়া।

পশ্চিমঘাটের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে এই সংকেত আরও তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে অন্তত ৩২৫টি বিপন্ন প্রজাতির বাস। ভারতের মোট জীববৈচিত্র্যের বড় একটি অংশ প্রায় ৩০ শতাংশ—এই এক অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ। ভৌগোলিক গঠন, জলবায়ু ও মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণে এখানকার বহু প্রাণী নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ থেকে বিবর্তিত হয়েছে। ফলে পরিবেশে সামান্য পরিবর্তনও তাদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মানুষের হাতেই তৈরি হচ্ছে চাপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমঘাটের এই সংকটের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ মানুষের কর্মকাণ্ড। গত কয়েক দশকে দ্রুত নগরায়ন, কৃষি জমির সম্প্রসারণ, গবাদি পশুর অতিরিক্ত চারণ, উইন্ডমিল স্থাপন এবং বড় বড় বাঁধ নির্মাণ সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।


আরও পড়ুন

কোয়ালাদের বাঁচার শেষ ভরসা

২৫ এপ্রিল ২০২৬



আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ তাদের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে পশ্চিমঘাটকে ‘গুরুতর উদ্বেগজনক’ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আগ্রাসী (ইনভেসিভ) প্রজাতির বিস্তার, মাটি খনন এবং বনভূমিতে মানুষের অনুপ্রবেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এই প্রভাব শুধু ফড়িংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিরল ‘গ্যালাক্সি ব্যাঙ’ ইতোমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যার পেছনে মানুষের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। একইভাবে ২০২৪ সালের এক গবেষণায় কৃষি সম্প্রসারণের কারণে স্থানীয় ব্যাঙের প্রজাতি হুমকির মুখে পড়ার তথ্য উঠে এসেছে।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে ২০২৩ সালের এক জরিপে, যেখানে দেখা যায়—পশ্চিমঘাটের ১২টি স্থানীয় পাখির প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে গেছে। এই ধারাবাহিক পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয়, পুরো বাস্তুতন্ত্রই চাপের মধ্যে রয়েছে।

নতুন আবিষ্কারের আড়ালে হারানোর গল্প

সংকটের মাঝেও গবেষণা থেমে নেই। দুর্গম বনাঞ্চল, শ্যাওলা-ঢাকা নদীর তীর, কিংবা ম্যানগ্রোভ জলাভূমিতে ঘুরে গবেষকরা এখনও নতুন প্রজাতির সন্ধান পাচ্ছেন।

কোপার্ডে ও তার দল সাতটি নতুন প্রজাতির ফড়িং ও ড্যামসেল-ফ্লাই আবিষ্কার করেছেন। এর মধ্যে একটি প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে ‘প্রোটোস্টিক্টা আর্মাগেডোনিয়া’। যা বিশ্বজুড়ে পোকামাকড়ের বিলুপ্তির ক্রমবর্ধমান সংকটের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

তবে এই আবিষ্কারের আনন্দের মাঝেই লুকিয়ে আছে এক বেদনাদায়ক সত্য—যত নতুন প্রজাতি সামনে আসছে, ততই হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো অনেক পরিচিত প্রজাতি। অর্থাৎ একদিকে যেমন আমরা নতুন কিছু জানছি, অন্যদিকে তত দ্রুত হারিয়ে ফেলছি বহু পুরোনো প্রাণ।

অজানা এক ইতিহাসের ধারক

পশ্চিমঘাট শুধু বর্তমানের জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এর রয়েছে গভীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসও। প্রায় ১৫ কোটি বছর আগে গন্ডোয়ানা নামের সুপারকন্টিনেন্ট ভেঙে যাওয়ার সময় এই পর্বতমালার সৃষ্টি হয়।


আরও পড়ুন

বিকিরণের মধ্যেও কীভাবে টিকে আছে বন্যপ্রাণী?

২৭ এপ্রিল ২০২৬



বর্তমান দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, মাদাগাস্কার, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অংশগুলো একসময় একই ভূখণ্ডের অংশ ছিল। সেই সময়ের প্রাকৃতিক বিবর্তনের ধারাবাহিকতাই আজও পশ্চিমঘাটের জীববৈচিত্র্যে প্রতিফলিত হয়। অনেক প্রজাতির শিকড় সেই প্রাচীন সময়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

এই কারণেই পশ্চিমঘাটকে শুধু একটি বন বা পাহাড়ি অঞ্চল হিসেবে দেখা যায় না; এটি প্রকৃতির এক জীবন্ত ইতিহাস।

এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়

গবেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমঘাটের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। কারণ এখনও পর্যন্ত ফড়িং ও ড্যামসেল-ফ্লাইয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা জনসংখ্যার সঠিক হিসাব তৈরি হয়নি।

এই তথ্য ঘাটতি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে কোন প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে, তা বোঝাও কঠিন হয়ে পড়বে। তাই গবেষণা, সংরক্ষণ ও সচেতনতা এই তিনটি দিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফড়িংয়ের মতো ক্ষুদ্র প্রাণীর ডানায় ভর করেই একসময় বনের ভারসাম্য টিকে ছিল। সেই ডানাগুলো যদি একে একে থেমে যায়, তাহলে থেমে যেতে পারে পুরো বাস্তুতন্ত্রের ছন্দও। আর তাই, যে ডানায় বাঁচত বন, সেই গল্প এখন হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু কিছু পোকামাকড়ের বিলুপ্তি নয়, বরং আমাদের নিজেদের ভবিষ্যতের ওপরও এক নীরব হুমকি।

ভাষান্তর: সারাফ আনজুম 

স্পেশাল-১বিপন্ন ফড়িং
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    অবহেলার ক্ষমতা ও অসহায়ের নিরন্তর মৃত্যুযাত্রা

    অবহেলার ক্ষমতা ও অসহায়ের নিরন্তর মৃত্যুযাত্রা

    ০২ মে ২০২৬, ২৩:১৬

    খরা কাটিয়ে ছন্দে ফেরার অপেক্ষায় কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’

    খরা কাটিয়ে ছন্দে ফেরার অপেক্ষায় কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’

    ০৩ মে ২০২৬, ০০:০৪

    কাঙাল হরিনাথ এবং মুক্ত সাংবাদিকতার একাল-সেকাল

    কাঙাল হরিনাথ এবং মুক্ত সাংবাদিকতার একাল-সেকাল

    ০৩ মে ২০২৬, ০০:২৮

    বাজারের উত্তাপ ডিসি সম্মেলনে

    বাজারের উত্তাপ ডিসি সম্মেলনে

    ০২ মে ২০২৬, ১৭:৫৬

    সীমান্তে যাত্রী কমে তলানিতে, ভিসা সংকট বাড়াচ্ছে উদ্বেগ

    সীমান্তে যাত্রী কমে তলানিতে, ভিসা সংকট বাড়াচ্ছে উদ্বেগ

    ০২ মে ২০২৬, ১৮:৫৬

    শেষযাত্রা চট্টগ্রামে

    শেষযাত্রা চট্টগ্রামে

    ০২ মে ২০২৬, ২১:১৭

    ৩৬তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের নেতৃত্বে নাজিম ও রানা

    ৩৬তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের নেতৃত্বে নাজিম ও রানা

    ০২ মে ২০২৬, ২২:৫৪

    আইনের খড়গ আর কণ্ঠরোধের শঙ্কা ছাপিয়ে এগিয়ে চলার লড়াই

    আইনের খড়গ আর কণ্ঠরোধের শঙ্কা ছাপিয়ে এগিয়ে চলার লড়াই

    ০৩ মে ২০২৬, ০০:২২

    ‘এটা আমাদেরই গল্প’র শেষ পর্বের দিনক্ষণ চূড়ান্ত, দর্শকদের জন্য উপহার ৯২ মিনিট

    ‘এটা আমাদেরই গল্প’র শেষ পর্বের দিনক্ষণ চূড়ান্ত, দর্শকদের জন্য উপহার ৯২ মিনিট

    ০২ মে ২০২৬, ২০:১১

    বছরের শেষেই চালু হতে পারে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

    বছরের শেষেই চালু হতে পারে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

    ০৩ মে ২০২৬, ০০:৩৩

    আগামীর সময়ে মীর হেলাল : ব্যক্তির নয়, কর্মের সমালোচনা করেন

    আগামীর সময়ে মীর হেলাল : ব্যক্তির নয়, কর্মের সমালোচনা করেন

    ০২ মে ২০২৬, ২০:৪৯

    বর্ষণে তিস্তায় দেখা মিলছে বৈরালির

    বর্ষণে তিস্তায় দেখা মিলছে বৈরালির

    ০২ মে ২০২৬, ২১:৫৩

    ঘাস কাটতে গিয়ে সাপের কামড়, মৃত্যু বৃদ্ধের

    ঘাস কাটতে গিয়ে সাপের কামড়, মৃত্যু বৃদ্ধের

    ০২ মে ২০২৬, ২১:৫২

    বহির্নোঙরে দুই জাহাজে ধাক্কা : আটকা ২৮০০ কনটেইনার আমদানি পণ্য

    বহির্নোঙরে দুই জাহাজে ধাক্কা : আটকা ২৮০০ কনটেইনার আমদানি পণ্য

    ০২ মে ২০২৬, ২১:৫৬

    ‘ধানটা লাল হয়ে আসছিল, কাটার সময়ই পাইলাম না’

    ‘ধানটা লাল হয়ে আসছিল, কাটার সময়ই পাইলাম না’

    ০২ মে ২০২৬, ২২:০২

    advertiseadvertise