বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহারই করেননি বেনজীর

দুবাইয়ে ঢুকতে বাংলাদেশের পাসপোর্টই ব্যবহার করেননি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। আর তাই আবুধাবির বাংলাদেশ মিশন দুবাই কিংবা আবুধাবি ইমিগ্রেশনে এ-সংক্রান্ত কোনো রেকর্ডই খুঁজে পায়নি। এখন প্রশ্ন হলো, বেনজীর তাহলে কোন দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন? কোন দেশের নাগরিক হিসেবেই বা প্রবেশ করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে?
বেশ কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বেনজীর আহমেদ পর্তুগালের পাসপোর্ট ব্যবহার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। দুবাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে রয়েছে একাধিক অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট। তবে লম্বা সময় ধরে তিনি বাস করছেন দুবাইয়ের অভিজাত পাম জুমেরাহ এলাকার ফ্ল্যাটে। সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ও সন্তানরাও। সেখান থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করছেন তারা।
সম্পদ অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৪ মে সপরিবারে বাংলাদেশ ছাড়েন সাবেক এই আইজিপি।
তখন অভিযোগ উঠেছিল, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে ‘সিগন্যাল’ পেয়েই তিনি দেশ ছেড়েছেন। এ কারণে বিমানবন্দরেও তাকে আটকানো হয়নি।
একাধিক সূত্র আগামীর সময়কে বলেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেনজীর আহমেদ সিঙ্গাপুর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান। পরে তিনি একাধিকবার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কাতার ও সৌদি আরবে যাতায়াত করেন। ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে স্পেনে যান। ওই বছরের ১৩ মার্চ স্পেন থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরে আসেন। এর পর থেকে দুবাইয়েই আছেন।
গত রবিবার জানা যায়, শুক্রবার দুবাই মল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেনজীরকে। দুদকের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
সাপ্তাহিক ছুটির পর গত সোমবার আরবি বছরের প্রথম দিন হওয়ায় সেদিন আদালত বসেনি। এরপর গতকাল মঙ্গলবার বেনজীরকে বিচারকের মুখোমুখি করেছিল দুবাই পুলিশ। সেখানে তিনি তার বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি জামিন প্রার্থনা করেন। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি আদালত। যদিও আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) থেকে ঢাকা এনসিবিকে পাঠানো চিঠিতে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল।
গতকাল রাতেই বেনজীর আহমেদ সংক্রান্ত ডকেট বা আইনি নথি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এখন নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে আবুধাবির এনসিবিতে এসব ডকেট পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাজ করেছেন— এমন একাধিক কূটনীতিক আগামীর সময়কে বলেছেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বেনজীরসংক্রান্ত ডকেট হাতে পাওয়ার পরই হয়তো আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন। বেনজীর অন্য কোনো দেশের পাসপোর্টধারী হয়ে থাকলে ঘটনা হয়তো অন্যদিকে মোড় নিতে পারে। তবে নিজ উদ্যোগে বেনজীরকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি তাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।
একটি সূত্র বলছে, বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও দুই দেশের পাসপোর্ট আছে বেনজীর আহমেদের। একটি ক্যারিবীয় দ্বীপ রাষ্ট্র বারমুডার, অন্যটি ইউরোপের দেশ পর্তুগাল। একই সঙ্গে রয়েছে আরও দুটি দেশের রেসিডেন্স কার্ড। এগুলো ব্যবহার করেই তিনি বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে আসছিলেন।




