মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে কামরুলের লড়াই

মহাসড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় কেটে পরিষ্কার রাখেন কামরুল
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফরহাদনগর অংশে মাঝেমধ্যে ঘটে দুর্ঘটনা। সড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড় বেড়ে গেলে চালকদের গাড়ি চালনায় বিঘ্ন ঘটে। বিষয়টি মাথায় নিয়ে দুই বছর ধরে কাজ করছেন ফরহাদনগরের বাসিন্দা কামরুল করিম (৩৫)। তিনি সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় নিয়মিত পরিষ্কার রাখেন; সড়ক নির্দেশক ও মাইলফলক পরিষ্কার করেন।
ফেনী সদরে মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা খাইয়ারা থেকে লেমুয়া পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় সড়কের দুই পাশে বেশি কাজ করেন তিনি। একই সঙ্গে গ্রামীণ সড়কে যেসব গর্তের সৃষ্টি হয়, তাও মেরামত করেন নিজের পকেটের টাকায়।
ফেনী সদরের ফরহাদনগর ইউনিয়নের উত্তর ফরহাদনগরের খাইয়ারা বাজারের পাশে জাহিদ মুহুরী বাড়ির প্রয়াত কবির আহমদের ছেলে কামরুল। স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। নিজের কাঠের আসবাবের দোকান পরিচালনার ফাঁকে ফাঁকে জনহিতকর কাজ করে আনন্দ পান বলে জানিয়েছেন তিনি।
ছোটবেলায় কক্সবাজারে বোনের বাড়িতে থেকে কাঠমিস্ত্রির কাজ শেখেন। দুই বছর আগে ফেনী ফিরে এসে ফরহাদনগরে আসবাবের দোকান দেন। কামরুল জানালেন, দুই বছর আগে তিনি এক ট্রাক আসবাব ফেনীতে পাঠান। কিন্তু চালক ঝোপঝাড়ের জন্য মহাসড়কের ফরহাদনগর এলাকার সড়ক নির্দেশক দেখতে না পেয়ে চলে যান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। পরে সেখান থেকে গাড়ি আবার ফেনীতে নিয়ে আসা হয়। সেই থেকে কামরুল সিদ্ধান্ত নেন মহাসড়কের দুই পাশ পরিষ্কার রাখার। ঝোপ-জঙ্গল, লতাপাতা পরিষ্কারের জন্য সম্প্রতি তিনি কিনেছেন দুটি যন্ত্র। কিনেছেন দুই জোড়া গামবুট, একটি কোদাল ও এক জোড়া কাস্তে। এসব সামগ্রী ব্যবহার করে সপ্তাহে দুদিন বা কখনো কখনো সপ্তাহে তিন দিন ঝোপ পরিষ্কারের কাজ করেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন বন্ধু শারাফাত, জিসান, রাহিম, মামুনসহ এলাকার কয়েকজন।
কামরুল বললেন, ‘মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে চাই, যাতে করে আমরা পরিবার নিয়ে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারি। ব্যবসা করে যা পাই, এর একটি অংশ দিয়ে সংসার চালাই, বাকি টাকা সড়কে ব্যয় করি। যতদিন সম্ভব হবে, ততদিন এ কাজ চালিয়ে যাব।’
‘অনেক সময় গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়। এর ফলে ঘটে দুর্ঘটনা। তাই আমরা মাঝেমধ্যে বালু ও কংক্রিট ফেলে এসব ছোট গর্ত মেরামত করি’—যোগ করেন তিনি।
কামরুল জানালেন, গত দুই বছরে ফরহাদনগর থেকে লেমুয়া পর্যন্ত সড়কের পাঁচ থেকে ছয়টি গর্ত, রামপুর রাস্তার মাথা, কোটবাড়িয়া কালভার্টের দুপাশের গর্ত ও চরকালিদাস সড়কের ৮ থেকে ১০টি গর্তসহ ৪৫ থেকে ৫০টি গর্ত মেরামত করা হয়েছে।
স্থানীয় অটোরিকশাচালক মো. ইয়াছিনের ভাষ্য, ‘টানা বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক সময় গ্রামীণ সড়কে গর্তের সৃষ্টি হয়। কামরুল ও তার বন্ধুরা মাঝেমধ্যে এসব গর্ত মেরামত করেন। ফলে আমাদের যান চালাতে সুবিধা হয়।’
কামরুলের কাজে এলাকার অনেকেই খুশি। স্থানীয় তরুণ ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন বলছিলেন, ‘কামরুল ভালো কাজ করছেন। আমরা যতদূর সম্ভব তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।’
ফরহাদনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বাচ্চু জানিয়েছেন, কামরুলের কাজের ফলে ফরহাদনগর ও খাইয়ারা অংশে মহাসড়কের দুই পাশ এখন দৃশ্যমান থাকে। এতে যানবাহন চলাচলে সুবিধা হচ্ছে।




