নবম পে স্কেল: পেনশন বাড়ল ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক পেনশনে বড় পরিবর্তন আনল সরকার। পেনশনের পরিমাণ অনুযায়ী পাঁচটি ধাপে (স্ল্যাব) ভাগ করে নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন হার। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ৫৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে নিট পেনশন। ফলে যারা অনেক আগে অবসরে গেছেন এবং এখন তুলনামূলক কম পেনশন পান, তাদের পেনশন বেশি হারে বাড়বে। এ ছাড়া নতুন কাঠামোয় পেনশন নির্ধারণ, পারিবারিক পেনশন এবং চাকরিরত অবস্থায় কোনো কর্মচারীর মৃত্যু হলে তার পরিবারের প্রাপ্য সুবিধার বিষয় রয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে সরকারি কর্মচারীদের নবম জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’- এ স্বাক্ষর করেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
সর্বনিম্ন পর্যায়ের বর্তমানে যারা ৯ হাজার পেনশন পান, তারা এখন পাবেন ১৮ হাজার টাকা। আর বর্তমানে সর্বোচ্চ যারা মাসে ৪০ হাজার ১ টাকা থেকে তার বেশি পেনশন পান, তারা পাবেন ৭০ হাজার ২০০ টাকা হারে।
প্রথম ধাপে রয়েছেন যাদের মাসিক নিট পেনশন সর্বনিম্ন থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। এই শ্রেণিতে পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় ন্যূনতম নিট পেনশন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ নিট পেনশন ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাদের পেনশন বাড়বে ৭৫ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় ন্যূনতম নিট পেনশন ১৮ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৩৫ হাজার টাকা হবে।
তৃতীয় ধাপে রয়েছে ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা। এই শ্রেণিতে পেনশন বাড়ানো হয়েছে ৬৫ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় ন্যূনতম নিট পেনশন ৩৫ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৪৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চতুর্থ ধাপে ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাদের পেনশন বাড়বে ৬০ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় ন্যূনতম নিট পেনশন ৪৯ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৬২ হাজার টাকা করা হয়েছে।
পঞ্চম ধাপে রয়েছেন ৪০ হাজার ১ টাকা ও তার ঊর্ধ্বে নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা। এই শ্রেণিতে পেনশন বাড়ানো হয়েছে ৫৫ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় ন্যূনতম নিট পেনশন ৬২ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে শর্ত থাকে, যেসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান পেনশনপ্রাপ্ত অবসরভোগী এরই মধ্যে ৭০ হাজার ২০০ টাকার অতিরিক্ত নিট পেনশন উত্তোলন করছেন, সেই ক্ষেত্রে তিনি পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধির (১ জুলাই ২০২৭) পূর্ব পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশনই পাবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই নিট পেনশনপ্রাপ্ত অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের বিশেষ সুবিধা আর থাকছে না। অর্থাৎ জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের দেওয়া বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত হবে। এদিকে, ১ জুলাই ২০২৬ বা এরপর কর্মরত কোনো সরকারি কর্মচারী (স্বামী/স্ত্রী) মারা গেলে তার পরিবার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পারিবারিক পেনশন, আনুতোষিক ও অন্যান্য ভাতা পাবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথমে প্রত্যেকের নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি দেওয়া হবে। অবসর-পরবর্তী ছুটির ক্ষেত্রেও সুবিধা রাখা হয়েছে। বিদ্যমান ছুটির বিধান অনুযায়ী কোনো কর্মচারীর ছুটি পাওনা থাকলে তিনি ১২ মাস পূর্ণ গড় বেতনে অবসর-উত্তর ছুটি ভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১৮ মাসের ছুটি নগদায়নের সুবিধা পাবেন।



