একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন

মুস্তাফা মনোয়ার। ছবি: সংগৃহীত
একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে বরেণ্য এ চিত্রশিল্পীর মৃত্যু হয়।
মুস্তাফা মনোয়ারের ব্যক্তিগত সহকারী রুবেল মিয়া জানিয়েছেন এ তথ্য।
রুবেল বলেছেন, সকাল সাড়ে ৮টায় মারা গেছেন।
১৪ জুন থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
‘বাংলাদেশের পাপেটম্যান’ হিসেবে খ্যাত ছিলেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন।
শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০০৪ সালে একুশে পদক পান এ চিত্রশিল্পী। পাশাপাশি নানা সম্মাননায় তিনি ভূষিত ছিলেন।
কবি গোলাম মোস্তফার ছেলে মুস্তাফা মনোয়ারের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা আর গানের প্রতি তীব্র আকর্ষণ ছিল তার। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় যোগ দেন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে। জেলে যান ছবি আঁকার অপরাধে।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের অন্যতম স্থপতি তিনি। সৃষ্টি করেছেন ‘পারুল’-এর মতো জনপ্রিয় চরিত্র। জড়িত ছিলেন ‘মীনা’র সঙ্গে। নির্মাণ করেছেন শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে বাংলাদেশের সবচেয়ে মানসম্পন্ন ও জনপ্রিয় অনুষ্ঠান নতুন কুঁড়ি। তার নির্মিত অনুষ্ঠান মনের কথাও ব্যাপক সমাদৃত।
মুস্তাফা মনোয়ারের কর্মজীবনের শুরু পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা, শিল্পকলা একাডেমীসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে কর্মরত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী শিবিরে শিশুদের আতঙ্কগ্রস্ত মলিন চেহারা তাকে ব্যথিত করে। তাই বাচ্চাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সেই শরণার্থী শিবিরেই আয়োজন করেন জীবনের প্রথম পাপেট শো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন আঙ্গিকে বাংলাদেশের শিল্পজগতে মুস্তাফা মনোয়ার মেলে ধরেন পাপেটের এক নতুন রূপ।




