জাতীয় জাদুঘরে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মবার্ষিকী ও ‘নৃত্যগীতি-প্রবন্ধ পাঠ’

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘নৃত্যগীতি ও প্রবন্ধ পাঠ’।
ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার পাওয়ান বঢ়ে।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলছিলেন, সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়; সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়, চেতনা ও সভ্যতার ভিত্তি। যে জাতি তার সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করতে পারে না, সেই জাতি ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় টিকে থাকতে পারে না। হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, সহনশীলতা ও মুক্তচিন্তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনের মাধ্যমে সেই চেতনাকেই বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম।
তার ভাষ্য, বাংলাদেশের সংস্কৃতি বৈচিত্র্যের এক অনন্য মিলনভূমি। এ দেশের বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, ভাষা ও গোষ্ঠীর মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মাধ্যমে গড়ে তুলেছে এক সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। বিভেদ, সাম্প্রদায়িকতা ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।
‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সংস্কৃতিকে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করা, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং শিল্পী-সংস্কৃতি কর্মীদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার।’
সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য বিশেষ কল্যাণ কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন নিতাই রায় চৌধুরী। যেন প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসতে পারেন তারা। পাশাপাশি দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, লোকঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে নেওয়া হচ্ছে কার্যকর পদক্ষেপ। কারণ, ঐতিহ্য রক্ষা মানেই জাতির শেকড়কে সুরক্ষিত রাখা।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও জানাচ্ছিলেন, মানবতার বাণী শিখিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ, সাম্য, দ্রোহ ও মুক্তির চেতনা শিখিয়েছেন নজরুল।
‘নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের আদর্শ পৌঁছে দিতে হলে সাংস্কৃতিক চর্চাকে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজজীবনের প্রতিটি স্তরে প্রতিষ্ঠা করতে হবে আরও শক্তিশালীভাবে। একটি মানবিক, প্রগতিশীল ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সংস্কৃতিই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি।’
অনুষ্ঠানে মনোমুগ্ধকর নৃত্যগীতি পরিবেশন করেছেন খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ ও শামীম আরা নীপার নির্দেশনায় ‘নৃত্যাঞ্চল’-এর শিল্পীরা। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক চেতনাকে কেন্দ্র করে প্রবন্ধ পাঠ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ রেজা।
অনুষ্ঠানে ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম।
আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে ‘তপোধন’ সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ ও ‘বহুমাত্রিক ডট কম’।







