নজরুল স্মৃতিকেন্দ্রে কমছে দর্শনার্থী

কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিকে ধরে রাখতে ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে নির্মিত হয় ‘কবি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র’। শুরুতে জমজমাট পরিবেশ থাকলেও দিনে দিনে সেখানে কমছে দর্শনার্থী। শূন্যে গিয়ে ঠেকেছে সেখানকার পাঠাগারের পাঠক সংখ্যা।
২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট কাজীর শিমলা ও নামাপাড়ায় পৃথক দুটি স্মৃতিকেন্দ্র তৈরি করে তৎকালীন সরকার। এর মধ্যে নামাপাড়ার কেন্দ্রটি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় লোকজনের আনাগোনা আছে। কিন্তু অনেকটা অবহেলায় পড়ে আছে কাজির সিমলার স্মৃতিকেন্দ্রটি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজীর শিমলার স্মৃতিকেন্দ্রটি নজরুল ইনস্টিটিউটের অধীন। সেখানে নজরুলসহ অন্যান্য লেখকের বই আছে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি। নজরুলের ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্ন বলতে আছে শুধু একটি খাট। ‘এখানে দর্শনার্থী আসেন খুবই কম। দিনে দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা কমছে। আর পাঠাগারটি একেবারে পাঠকশূন্য। একসময় পাঠাগারে দৈনিক পত্রিকা রাখা হলেও ২০২০ সালে করোনার পর থেকে সেটিও বন্ধ আছে। তাই পাঠাগারে তেমন কেউ বসেনও না। এ ছাড়া আসা-যাওয়ার সড়কটি নিয়েও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন’— বললেন স্মৃতিকেন্দ্রের লাইব্রেরিয়ান মো. রাসেল হোসাইন।
নজরুল ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক মনির হোসেনের আশ্বাস, কেন্দ্রে পত্রিকা রাখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। দর্শনার্থী কম আসা ও পাঠাগারের বই না পড়া সম্পর্কে তার ভাষ্য, ‘স্থানীয় সুধী, সচেতন মহল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে।’ ত্রিশালের ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী জানালেন, সড়কটি নির্মাণ এবং সংস্কারের জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে বলেছেন।
১৯১৪ সালের জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে আসেন কাজী নজরুল ইসলাম। সেই গ্রামের বাসিন্দা কাজী রফিজ উল্লাহ সে সময় ছিলেন আসানসোলের দারোগার। সেখানেই নজরুলের সঙ্গে পরিচয় হয় এ পুলিশ কর্মকর্তার। নজরুলকে ভালোবেসে কাজী রফিজ উল্লাহই ত্রিশালে নিয়ে আসেন নজরুলকে, ভর্তি করান স্থানীয় দরিরামপুর হাই স্কুলে।






