রোকেয়া হলে নজরুল উদযাপন ‘চির-উন্নত মম শির'

ছবি: আগামীর সময়
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী এবং নজরুল বর্ষ ২০২৬–২৭ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক নিবেশ রোসনির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চির-উন্নত মম শির: রোকেয়া হলে নজরুল উদযাপন ২০২৬’।
আয়োজনে সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এবং পরিবেশ সহযোগী ছিল মিশন গ্রিন বাংলাদেশ।
দুই পর্বের এ আয়োজনের প্রথম পর্বে ‘কণ্ঠে, কথায় ও নৃত্যে নজরুল’ শীর্ষক অনলাইন প্রতিযোগিতায় রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও একক নৃত্যে অংশ নেন। বিচারকমণ্ডলী ভিডিও পরিবেশনা মূল্যায়ন করেন।
দ্বিতীয় পর্বে রোকেয়া হল অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ছিল ‘বুলবুলি বই কর্নার’ এবং ‘নজরুল ফটো গ্যালারি’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। উদ্বোধক ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মাওলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী।
প্রধান আলোচক ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুলসংগীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা। সভাপতিত্ব করেন রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম। এ সময় রোকেয়া হলের হাউস টিউটর এবং রোসনির মডারেটর দীপা সরকার, তানজিনা বিনতে নূর ও ফারজিয়া হক ফারিন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রোসনির সাধারণ সম্পাদক জিন্নাতুল ইসলাম প্রত্যাশা। স্বাগত বক্তব্যে রোসনির সভাপতি রিফতি আল জাবেদ বললেন, বিশুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশে রোসনি নিরলসভাবে কাজ করছে। নজরুলের মানবিক, সাম্যবাদী ও প্রতিবাদী চেতনাকে ধারণ করেই এ আয়োজনের নামকরণ করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, নজরুল বাংলা সাহিত্যের সর্বক্ষেত্রে বিচরণকারী এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তার সাম্য ও মানবতার দর্শন আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।
প্রধান আলোচক ফাতেমা তুজ জোহরা নজরুলসংগীত, নজরুল দর্শন ও তার সৃষ্টির তাৎপর্য তুলে ধরেন। সমাপনী বক্তব্যে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনের জন্য রোসনির সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলোচনা, সম্মাননা, প্রদর্শনী এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি নজরুলচর্চার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মধ্যে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।





