রাশিয়ান সেনা ইউরি রেডকিনসহ অপারেশন জ্যাকপটের জলযোদ্ধাদের বীরত্ব স্মরণ

ছবি: আগামীর সময়
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অপারেশন জ্যাকপটের নৌ কমান্ডো ও জলযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা স্মরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেশন জ্যাকপটে ডুবে যাওয়া জাহাজ ও মাইন অপসারণ করতে গিয়ে ১৯৭৩ সালের ১৩ জুলাই জীবন হারানো রাশিয়ান সেনা ইউরি রেডকিনকেও স্মরণ করা হয়।
আজ রবিবার রাজধানীর ধানমন্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে স্মৃতি একাত্তর ও রাশিয়ান হাউজের আয়োজনে এবং 1971OUrPRIDE-এর সহযোগিতায় এ স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অপারেশন জ্যাকপটে অংশ নেওয়া নৌ কমান্ডো ও যোদ্ধারা তাদের বীরত্বপূর্ণ অভিযানের স্মৃতিচারণ করেন।
বীর নৌযোদ্ধারা জানান, ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট রাতে আকাশবাণী রেডিওতে হঠাৎ বাজানো হয় ‘আমার পুতুল আজকে যাবে শ্বশুরবাড়ি’ গানটি। এটিই ছিল অপারেশন জ্যাকপটের সংকেত। নির্দিষ্ট কয়েকজনই কেবল এই সংকেত সম্পর্কে জানতেন। সংকেত পাওয়ার পরই দুঃসাহসিক অভিযানে নেমে পড়েন নৌ কমান্ডোরা।
তারা জানান, ১৫ ও ১৬ আগস্ট পরিচালিত অপারেশন জ্যাকপট ছিল একযোগে পরিচালিত একটি অবিস্মরণীয় অভিযান। চট্টগ্রাম, মোংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ— এই চার স্থানে নৌ কমান্ডোরা অভিযান চালান। তাদের আক্রমণে পাকিস্তানি জাহাজসহ বিভিন্ন দেশের জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত ও ডুবে যায়। এর ফলে সমুদ্রবন্দর ও নৌবন্দরগুলোর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, পাকিস্তানি বাহিনীর প্রচারিত ‘বাংলাদেশে সবকিছু স্বাভাবিক’ থাকার দাবি সত্য নয়।
অনুষ্ঠানের মুখ্য আয়োজক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান বলেন, এই আয়োজনের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জলবীরত্বের অনবদ্য ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা, জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা জানা, তাদের সম্মাননা দেওয়া এবং যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের স্মরণ করা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও অপারেশন জ্যাকপটের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের মাইন অপসারণ এবং ডুবে যাওয়া জাহাজ সরাতে গিয়ে জীবন দেওয়া রাশিয়ান সেনা ইউরি রেডকিনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অপারেশন জ্যাকপটে সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত দুটি গানও অনুষ্ঠানে পরিবেশন করেন মকবুল হোসেন ও অন্য শিল্পীরা।






