হামে শিশুমৃত্যু
প্রতীকী ‘শিশুমর্গে’ প্রাচ্যনাটের প্রতিবাদ

ছবি: আগামীর সময়
হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে একের পর এক শিশুমৃত্যুতে যখন দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও উদ্বেগ, তখন সেই বেদনা ও ক্ষোভকে প্রতীকী ভাষায় রাস্তায় তুলে আনল নাট্যসংগঠন প্রাচ্যনাট।
সাদা কাফনে মোড়ানো শিশুদের প্রতীকী মরদেহ বুকে নিয়ে রাজধানীর রাজপথে তাদের চলমান পরিবেশনা ‘শিশুমর্গ’ যেন হয়ে উঠেছিল শোক, প্রতিবাদ ও প্রশ্নে ভরা এক নীরব মিছিল। চিকিৎসা ব্যবস্থার অবহেলায় শত শত শিশুর মৃত্যুর বিচার দাবিতে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী পরিবেশনা হৃদয় স্পর্শ করেছে সাধারণ মানুষেরও।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর কাঁটাবন মোড়ে কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্সের সামনে শিশুদের প্রতীকী মরদেহ নিয়ে চলমান এই পরিবেশনা শুরু হয়। আর তা শেষ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে। পুরো যাত্রাপথে মৃদুস্বরে বাজানো হয় শিশুতোষ গান ও কবিতা—‘ভোর হলো দোর খোলো’, ‘নোটন নোটন পায়রাগুলো’, ‘থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে’। পথে পথে দর্শকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়- ‘কে ফিরিয়ে দেবে এই সব তাজা প্রাণ? আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে?’
সবশেষে ‘শিশুমর্গ’ পৌঁছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে। সেখানে সমাপনী বক্তব্যে প্রাচ্যনাটের সদস্য জগন্ময় পাল বললেন, ‘এই দেশ ‘শিশুস্বর্গ’ হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাই ছিল আমাদের। কিন্তু পরিকল্পিত চিকিৎসা অবহেলায় তা আজ পরিণত হয়েছে শিশুমর্গে। এর জন্য দায়ীদের শাস্তি হোক।’




