অভি শংকরের একক শিল্প প্রদর্শনী ‘অ্যাটমোসফিয়ার্স অব টাইম’

ছবি: আগামীর সময়
প্ল্যাটফর্মস গ্যালারিতে চলছে চিত্রশিল্পী অভি শংকর আইনের একক প্রদর্শনী ‘অ্যাটমোসফিয়ার্স অব টাইম’, যেখানে স্থান পেয়েছে তার নতুন ৩০টি চিত্রকর্ম। ঋতুর পরিবর্তন, স্মৃতি এবং সময়ের প্রবাহকে কাব্যিকভাবে অনুসন্ধান করেছে এই প্রদর্শনী।
অ্যাবস্ট্রাক্ট এক্সপ্রেশনিস্ট ধারায় কাজ করা অভি শংকর আইন শরীর ও প্রকৃতির ভেতর দিয়ে ঋতুর সূক্ষ্ম পরিবর্তনকে অনুসরণ করেছেন। তার কাজ পরিবর্তনকে শুধু উপস্থাপন করে না, বরং সেই পরিবর্তনের মধ্যেই অবস্থান করে। দীর্ঘায়িত আলোর ধীর উষ্ণতা, শীতের নীরব ঘনত্ব কিংবা ঋতু বদলের কোমলতা ও কঠোরতার সূক্ষ্ম টানাপোড়েন— সবই তার ক্যানভাসে ধরা পড়ে।
প্রতিটি চিত্র যেন দিন ও রাতের এক ধারাবাহিক যাত্রা, যেখানে রং, টেক্সচার ও তুলির আঁচড় স্মৃতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া ক্ষণিক মুহূর্তগুলোকে ধারণ করে। পুরো প্রদর্শনীজুড়ে জল, আকাশ ও দিগন্ত মিশে গেছে অনুভূতির তরল ভূদৃশ্যে। যদিও কোথাও মানব অবয়ব নেই, তবুও ছবিগুলো গভীরভাবে মানবিক— যেখানে আছে আবেগের উষ্ণতা, স্থিরতা, অস্থিরতা ও প্রশান্তি।
এই কাজগুলো কোনো নির্দিষ্ট গল্পে আবদ্ধ নয়; বরং দর্শকদের আমন্ত্রণ জানায় অনিশ্চয়তার ভেতর অবস্থান করতে এবং সময়ের চক্রাকার প্রকৃতি ও আলো, বাতাস, উষ্ণতা ও শীতের পরিবর্তনশীল উপস্থিতিকে অনুভব করতে।
‘অ্যাটমোসফিয়ার্স অব টাইম’ গভীর ধ্যানমগ্ন শিল্পচর্চার প্রতিফলন। অভির চিত্রকর্মে পরিবর্তনের ভঙ্গুরতা ও স্মৃতির স্থায়িত্ব ধরা পড়ে, যা দর্শকদের ধীর ও নিমগ্নভাবে দেখার অভিজ্ঞতা দেয়। এই কাজগুলো সময়কে কেবল ধারাবাহিকতা হিসেবে নয়, বরং এক ধরনের আবহ হিসেবে অনুভব করার আহ্বান জানায়’—বলছিলেন প্ল্যাটফর্মস গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা রায়ানা হোসেন।
সুলতান এম মইনউদ্দিন বললেন, ‘এই প্রদর্শনী প্ল্যাটফর্মস গ্যালারির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আমরা এমন সমসাময়িক বাংলাদেশি শিল্পীদের উপস্থাপন করে চলেছি, যাদের শিল্পচর্চা একদিকে যেমন বৈশ্বিক ভিজ্যুয়াল ভাষার সঙ্গে সংযুক্ত, অন্যদিকে তেমনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার গভীরে প্রোথিত।’
‘অভির কাজ এমন এক আবেগময় ভূদৃশ্য নির্মাণ করে যা ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে যায়। তার চিত্রকর্ম রঙ ও তুলির ভাষার মাধ্যমে সময়কে অনুভব করার সুযোগ দেয় এবং স্মৃতি, পরিবেশ ও বিমূর্ততার মধ্যে শক্তিশালী সংলাপ তৈরি করে’— উল্লেখ করলেন মনিরুল ইসলাম।
‘অ্যাটমোসফিয়ার্স অব টাইম’ প্রদর্শনীতে থাকা ৩০টি শিল্পকর্ম সম্মিলিতভাবে ঋতুর পরিবর্তন, আবেগের ছন্দ এবং পরিবর্তনের নীরব কবিতার মধ্য দিয়ে এক ধ্যানমগ্ন যাত্রা তৈরি করেছে।
প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ১৬ মে এবং চলবে ৭ জুন পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ছবিপ্রেমীরা প্রদর্শনীটি উপভোগ করতে পারবেন।





