প্রকাশনা অনুষ্ঠান
সন্জীদা খাতুন স্মরণগ্রন্থ ‘কী রাগিণী বাজালে’

ছবি: আগামীর সময়
বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে কিংবদন্তিতুল্য সন্জীদা খাতুনকে স্মরণ করে প্রকাশ হয়েছে স্মরণগ্রন্থ ‘কী রাগিণী বাজালে’। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবন মিলনায়তনে গ্রন্থটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়। এতে অংশ নেন দেশের খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী, আবৃত্তিকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত গান হিসেবে পরিবেশিত হয় ‘শুভ সমুজ্জ্বল, হে চির-নির্মল’, যার রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। এরপর সূচনা বক্তব্য দেন ভীষ্মদেব চৌধুরী, যার বিষয় ছিল ‘গ্রন্থের বিষয় ও কর্ম ভাবনা’।
গত বছরের ২৫ মার্চ প্রয়াত হন সন্জীদা খাতুন। আজীবন রবীন্দ্রসাধনায় মগ্ন থাকা সন্জীদা খাতুন তার মৃত্যুহীন প্রাণ পুরোটাই বিলিয়ে দিয়েছেন মানুষের কল্যাণে, যার জীবন কেটেছে বাঙালির আত্মপরিচয়ের সুলুক সন্ধানে।
ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, ‘এ গ্রন্থটিতে একটি সাক্ষাৎকারসহ প্রায় ৫০টি লেখা সংকলিত হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম সন্জীদা খাতুনের ৯৩তম জন্মদিনে গ্রন্থটি প্রকাশ করতে, নানা কারণে কিছুটি বিলম্বে প্রকাশ হয়েছে।’
'কী রাগিণী বাজালে' গ্রন্থের সম্পাদকমণ্ডলীতে আছেন রামেন্দু মজুমদার, মফিদুল হক, বেগম আকতার কামাল, ভীষ্মদেব চৌধুরী, রুচিরা তাবাসসুম নভেদ্, জয়ন্ত রায়। প্রচ্ছদ ও নকশা এঁকেছেন সব্যসাচী হাজরা। গ্রন্থটির প্রকাশক ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লাইসা।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে একক কণ্ঠে ইফফাত আরা দেওয়ান পরিবেশন করেন রজনীকান্ত সেনের রচনা ‘স্বপনে তাহারে কুড়ায়ে পেয়েছি’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ‘ভেঙেছে দুয়ার, এসেছে জ্যোতির্ময়’ পরিবেশন করেন মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না।
সমবেত গান হিসেবে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পান্থ তুমি, পান্থজনের সখা হে’। একক কণ্ঠে লাইসা আহমদ লিসা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কী রাগিনী বাজালে হৃদয়ে’। ফারহানা আক্তার শ্যার্লি পরিবেশন করেন কাজী নজরুল ইসলামের ‘ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হয়ে’। খায়রুল আনাম শাকিল পরিবেশন করেন ‘প্রথম প্রদীপ জ্বালো মম ভবনে’।
সন্জীদা খাতুনের লেখা থেকে পাঠ করেন সুমনা বিশ্বাস। চন্দনা মজুমদার পরিবেশন করেন বিজয় সরকারের লেখা গান ‘আমার প্রাণ বন্ধুরে দেহে রে’ এবং কিরণ চন্দ্র রায় পরিবেশন করেন প্রচলিত লোকসংগীত ‘ভবের বাজার ভেঙে যাবে রে মন’।
সবশেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।



