যৌতুক চেয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

দুলাল হোসেন ওরফে দুলু ওরফে জুয়েল। ছবি : আগামীর সময়
১০ বছর আগে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী দুলাল হোসেন ওরফে দুলু ওরফে জুয়েলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ রবিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার বাকি চার আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) এ তথ্য জানান।
খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন দুলালে ভাই হারুন, ভাবি মোরশেনা, বোন সুমাইয়া এবং বোন জামাই রাজু।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০০১ সালে দুলালের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শারমিন। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে অপর আসামিদের কুপরামর্শ ও প্ররোচনায় দুলাল শারমিনের পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে মারধর করত। ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসামিরা যৌতুকের জন্য মারধর করে।
ঘটনার বিষয়ে শারমুন তার মাকে জানায়, আসামিরা শরীরে কেরোসিন ঢেলে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। শারমিনের চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের ভর্তি করা হয়।
এ সংবাদ পেয়ে শারমিনের মা মোসা. মোমেলা হাসপাতালে গিয়ে মেয়েকে মুমূর্ষ অবস্থায় দেখতে পান। তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানতে পারেন। ৩০ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শারমিন।
এ ঘটনায় তার মা মোমেলা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দুলালের মা জরিনা, এই পাঁচ আসামিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি মামলার তদন্ত শেষে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই এ কে এম সাইদুজ্জামান।
এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।



