রামিসা হত্যায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেন সোহেল ও তার স্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। আজ সোমবার এই মামলায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়েছে।
এদিন আদালতে শুনানি চলাকালে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন। ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন আদালত। পরে সাক্ষ্য গ্রহণ, আত্মপক্ষ ও যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণা করা হবে।
এর আগে দুই আসামিকে কারাগার থেকে আলাদা প্রিজনভ্যানে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের রাখা হয় মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায়। পুলিশ প্রহরায় প্রথমে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সোহেলকে এবং পরে ১১টা ৭ মিনিটে স্বপ্নাকে তোলা হয় কাঠগড়ায়। কাঠগড়ায় তোলার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বপ্না। এ সময় দায়িত্বরত মহিলা পুলিশ সদস্যরা তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেন। এরপর তিনি কিছুটা স্বাভাবিক হন।
এরপর ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে ওঠেন। দিনের শুরুতে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড মামলার শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ তাদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ও বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু অভিযোগ গঠনের পক্ষে যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। শুনানি চলাকালে বিচারক জানতে চান, আপনারা ঘটনার বিষয়ে দোষী না নির্দোষ? জবাবে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন। এ সময় আসামি সোহেল রানা জানালেন, তার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামি সোহেল রানা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলার একটি রুমে নিয়ে যান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করেন তার মা। সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। সোহেল ও স্বপ্নার শোবারঘরে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। স্বপ্না সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ ঘটনার দিন দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। মামলার প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় স্বপ্না আক্তারকে। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন। এতে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক চার্জশিট গ্রহণ করে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মামলাটি বদলির আদেশ দেন। একই দিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন। এ ছাড়া আসামিপক্ষে পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মুসা কালিমূল্যাহকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করে আইন মন্ত্রণালয়।






