২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনে নির্দেশ হাইকোর্টের

ফাইল ছবি
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ২৬টি টুথপেস্টে মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাটিস্টক’ শনাক্তের খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞ নিয়ে এই কমিটি গঠন করতে হবে।
স্বাস্থ্য সচিব ও বিএসটিআই’র মহাপরিচালক এই আদেশ পালন করবেন। কমিটি গঠনের ১৫ দিনের মধ্যে তাদেরকে এ বিষয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এ বিষয়ে খবর প্রকাশের পর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন সোমবার এ বিষয়ে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মঙ্গলবার রুল জারির পাশাপাশি এই আদেশ দেন।
ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকযুক্ত টুথপেস্টের উৎপাদন, সরবরাহ ও আমদানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কেন সরকারের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চেয়েছেন আদালত।
পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ বিবাদীদের আগামীর চার সপ্তাহর মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলাটি আবার ২৫ আগস্ট শুনানি হবে এবং এর মধ্যেই তিনজন বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে হবে এবং তাদেরকে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
এর আগে ভোক্তা অধিকার ও সচেতনতাবিষয়ক সংগঠন কনশাস কনজিউমারস সোসাইটি (সিএসএস) জানায় দেশের বাজারে প্রচলিত জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৬টি টুথপেস্টে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণার ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
সিএসএসের গবেষণা বলছে, পরীক্ষাধীন টুথপেস্টের প্রতি ১০০ গ্রাম নমুনায় সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। সংগঠনটির দাবি, প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার মতো সাধারণ অভ্যাসের মাধ্যমে অজান্তেই মানুষ এসব ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণার সংস্পর্শে আসছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
গবেষণায় সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে, যেখানে প্রতি ১০০ গ্রাম নমুনায় ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্লোজ আপ রেড হট এবং ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ। দুটি টুথপেস্টেই ১৬০টি করে কণা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি এবং পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে কণা পাওয়া গেছে।
সিএসএস জানিয়েছে, শিশুদের জন্য তৈরি টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জে ২০টি কণা পাওয়া গেছে। শিশুদের অনেক সময় টুথপেস্ট গিলে ফেলার প্রবণতা থাকায় বিষয়টি অভিভাবকদের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
গবেষণায় আরও যেসব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট, পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট, হোয়াইট প্লাস রেড, হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল, সিগন্যাল হোয়াইটেনিং, মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা, এএম.পিএম. হার্বাল টুথপেস্ট, মেডিপ্লাস ডিএস, পেপসোডেন্ট জার্মিচেক প্লাস, ম্যাজিক হার্বাল, মেসবাক, ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশে, ডেন্টিন জেল টুথপেস্ট, ক্লোজ আপ লেমন সি সল্ট, ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল এবং হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ।




