শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টা : চারদিনের রিমান্ডে হিরা ব্যবসায়ী দিলীপ আগরওয়ালা

ছবি: আগামীর সময়
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন গুলশান থানার অর্থ পাচারের মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হবে। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
তবে আসামিপক্ষে তার জামিন প্রার্থনা করলে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এরপর হত্যাচেষ্টার মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. সুমন মিয়া তাকে গ্রেপ্তার দেখানো এবং ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে পৃথক দুটি আবেদন করেন।
প্রথমে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর তার ১০ দিনের রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবির বাবুল রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালকে গ্রেপ্তার করেছিল তখনকার র্যাব। পরবর্তী সময়ে তিনি ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন। যা নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠে। তার কারামুক্তির এক বছর পর ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় বনানী থেকে মানিলন্ডারিং মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২০ অক্টোবর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেষ দিন ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তীতে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করায় ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ আ. জব্বার বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ ১০০/১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।



