সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় গ্রেপ্তার জিয়াউল

জিয়াউল আহসান—ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) শাসনামলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত হওয়া সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, শাইখ মাহদী ও তাসমিরুল ইসলাম।
২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয় বলে তখন অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। সে সময় বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। একই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, সালাহউদ্দিন শিলংয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করার সময় স্থানীয় লোকজনের ফোন পেয়ে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে দেশটির ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা করে মেঘালয় পুলিশ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট সালাহউদ্দিন আহমদ দেশে ফেরেন। এরপর ২০২৫ সালের ৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ দেন তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অন্য ছয়জন হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম।
এই মামলায় গত ১০ আগস্ট তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়েছিলো প্রসিকিউশন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় আসামিকে।








