‘বিরোধী পক্ষ দমনে ভূমিকা রাখেন শেখ মামুন-আফজাল নাছের’

রিমান্ড মঞ্জুর শেষে শেখ মামুন খালেদ ও আফজাল নাছেরকে কারাগারে নেওয়া হয়।
রাজনৈতিকভাবে বিরোধী পক্ষকে দমনে বিগত সরকারকে সহযোগিতা করার অভিযোগে সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ ও সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আফজাল নাছেরের ফের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ রবিবার এ আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ। এদিন আসামি আফজাল নাছেরের দুই দিন ও শেখ মামুন খালেদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
নেপথ্যে থেকে বিরোধী দমনের অভিযোগ
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, স্বপদে দায়িত্বে থাকাকালে স্বপ্রণোদিত হয়ে তারা বিগত সরকারকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলার ঘটনা সংঘটনে নেপথ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তারা। এ কারণে তাদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন উল্লেখ করে ফের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে ডিবি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চার দিনের রিমান্ড শেষে আফজাল ও তিন দিনের রিমান্ড শেষে শেখ মামুনকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা পৃথক আবেদনে আফজালের পাঁচ দিন ও মামুনের এক দিনের রিমান্ড চান ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের উপপরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন।
রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী। অন্যদিকে রিমান্ড বাতিল করে জামিন চান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আফজালের দুই দিন ও মামুনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে গত ২৯ মার্চ রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন জুলাই আন্দোলনে দেলোয়ার হোসেন নিহতের ঘটনায় করা মামলায় ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয় তার। পরবর্তী সময়ে একাধিক দফায় বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয় তাকে।
অন্যদিকে ২৫ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয় শেখ মামুন খালেদকে। একই ধরনের অভিযোগে একাধিক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
মকবুল হত্যা মামলার প্রেক্ষাপট
২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে হামলায় গুলিবিদ্ধ হন মকবুল হোসেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মাহফুজুর রহমান।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।















